ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত আর ন্যূনতম চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ঢাকার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখার দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।
তারা বলেন, রাজধানীতে মেডিকেল হাসপাতালের বিকল্প না থাকায় সব ডেঙ্গু রোগীই বড় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছে। ফলে জটিল রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো।
পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক সব ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত করতে পারলে মশার উৎস নিধন করাও সহজ হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, বাপা আয়োজিত এক সভায় এসব কথা বলেন তারা।
আগের যেকোনো বছরের চেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। বছরের শুরু থেকে না হলেও মার্চ থেকেই মশক নিধনে তোড়জোড় আর প্রচারাভিযান শুরু করে প্রশাসন তারপরও কিছুতেই লাগাম টেনে ধরার যাচ্ছে না ডেঙ্গুর।
সকালে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন –বাপা আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবীরুল বাশার বলেন, পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রভাব তো আছেই তারপর এখন সারা বছরব্যাপীই এডিস মশার প্রকোপ থাকছে। যার জন্য প্রতিটি এলাকায় মশার উৎস নিধনের জন্য এলাকার মানুষকেই সক্রিয় করতে হবে।
নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবীব বলেন, নির্মাণাধীন ভবন, বেসমেন্ট, রাস্তা উঁচু হয়ে যাওয়ার কারণে বাড়ির নিচতলা, ওয়াসার মিটারহোল, মানুষের বাড়িতে পানি জমিয়ে রাখা- এগুলোর সাথে কিন্তু বৃষ্টির কোনো সম্পর্ক নেই। মশার এসব উৎস নিধনের জন্য এলাকার মানুষকেই সক্রিয় করতে হবে।
শুধু তাই নয় ডেঙ্গু রোগীর প্রকৃত সংখ্যা জানা যাচ্ছে না, তাই প্রাদুর্ভাবের আসল ধারণাও পাওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। রাজধানীতে এলাকাভিত্তিক জনস্বাস্থ্যের কোন অবকাঠামো নেই তাই সব রোগীর মেডিকেল হাসপাতালগুলোকেই সামলাতে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তারা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে মাত্র ২০ ভাগের নানা উপসর্গ দেখা দেয়। এই ২০ ভাগের মধ্যে মাত্র ৪-৫ শতাংশ তীব্র বা জটিল সমস্যায় ভোগে। তারাই মূলত হাসপাতালে ভর্তি হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোশতাক আহমেদ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় জড়িত ও চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা আক্রান্তদের বলেন, কোনো জটিলতা নেই, তাই বাড়ি চলে যান। আবার রোগী মারা গেলে আপনারাই বলেন, তারা দেরি করে এসেছেন।
বিদ্যমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে ডেঙ্গু আক্রান্তরা পর্যবেক্ষণে থাকতে পারেন, স্বাস্থ্যসেবার আওতায় থাকতে পারেন। তাহলে জটিল অবস্থায় পৌঁছার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে নেয়া যেতো।
প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, যেখানে ডেঙ্গু শনাক্ত হবে, তার আশেপাশের লোকেদের ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থাও করতে হবে।
পাশাপাশি নগর পরিকল্পনায় জনস্বাস্থ্যকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার দাবিও জানান বক্তারা।
একাত্তর/জো
