না জেনেই সাইবার সিকিউরিটি আইনের সমালোচনা: আইনমন্ত্রী

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৩, ০৭:৩০ পিএম

প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি আইন সম্পর্কে না জেনেই সমালোচনা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আানিসুল হক। তিনি বলেছেন, আগের ডিজিটাল নিরাপত্তার আইনের অপব্যবহার বন্ধ করতেই নতুন এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যারা এরইমধ্যে এই আইন নিয়ে সমালোচনা করেছেন তারা পুরোপুরি জেনে সমালোচনা করেছেন এটি বলা যাবে না।নতুন বোতলে পুরনো মদ বলে যারা সমালোচনা করছেন তারা জেনে সমালোচনা করছেন না।

সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের ফলে বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নাম বদলে যাচ্ছে। নতুন নাম হচ্ছে ‘সাইবার সিকিউরিটি আইন। একই সঙ্গে আইনের অনেকগুলো ধারায় সংশোধন আনা হচ্ছে। বেশকিছু জামিন অযোগ্য ধারাকে বলে জামিন যোগ্য করা হয়েছে। সাজাও কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পরিবর্তন করে নতুন সাইবার সিকিউরিটি আইনের খসড়া নিয়ে বিভিন্ন মহল সমালোচনা করছে। সরকারের মন্ত্রীরা এ নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেও বিভ্রান্তি দূর হচ্ছে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে আবারও বিষয়টি ব্যাখ্যা করার জন্য সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) মিলনায়তনে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ রহিতকরণ এবং নতুনভাবে প্রণীত বা প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩ বিষয়ক ওই সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকও ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার হয়েছে এটা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই। এই আইনের সংস্কার করতে গিয়ে দেখা যায় এর ব্যাপক পরিবর্তন করতে হবে, তাই আইনটি পরিবর্তন করা হচ্ছে।

দেশের সাংবাদিক, আইনজীবী, বুদ্ধিজীবীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ব্যাপক আপত্তি ও উদ্বেগের মধ্যে ২০১৮ সালে সংসদে পাস হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ৫৭সহ কয়েকটি ধারা বাতিল করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হলেও পুরনো আইনের বাতিল হওয়া ধারাগুলো রেখে দেয়ায় শুরু থেকেই এর অপপ্রয়োগের শঙ্কা করছিলো বিভিন্ন মহল।

আইনের ‘অপব্যবহার’ বন্ধে আশ্বাসের মধ্যেও সংবাদকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার চলছিলো। সাংবাদিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এই আইনের মাধ্যমে ‘গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ’ করা হচ্ছে।

বিদ্যমান আইনটি গণমাধ্যমের ওপর ‘চাপ’ সৃষ্টি করেছিলো বলে সংবাদ সম্মেলনে স্বীকারও করেন আইনমন্ত্রী। সেই চাপ কমাতেই নতুন আইনের খসড়ায় সাজা কমানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আনিসুল হক বলেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন চাপ তৈরি করেছিলো। সেই চাপ কমাতে আইনের নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি সাজা কমানো হয়েছে, অজামিনযোগ্য ধারাকে জামিনযোগ্য করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার রোধের পাশাপাশি জনগণ ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর মানসিক চাপ কমাতেই নতুন আইন প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সাইবার নিরাপত্তা আইনে বাদ দেয়া হয়েছে ডিএসএর ৩৩ ও ৫৭ নম্বর ধারা।’

আইনমন্ত্রী বলেন, অপরাধের ধরনের ওপর ভিত্তি করে আদালত জরিমানা করবেন আইনে এটা বলা হয়েছে। সবসময় ২৫ লাখ টাকা জরিমানা হবে বিষয়টি এমন নয়। সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের সব ধারায় জামিনযোগ্য করেছি। তবে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অধিকাংশ ছিল জামিন অযোগ্য।

মন্ত্রী বলেন, কিছু কিছু মানুষ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনকে নতুন বোতলে পুরানো মদ বলছে, এটা ঠিক নয়। যেমন ২৯ ধারা মানহানিতে জেল ছিল এটা এখন নেই, ২১ ধারায় জেল ছিল ১০ বছর এখন এটা কমে ৭ বছর হয়েছে। তাহলে এটা কি নতুন নয়।

আনিসুল হক বলেন, কেউ যদি বলে নতুন বোতলে পুরাতন মদ এটা শুধু সমালোচনার উদ্দেশ্য বলা। যেমন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে টাকা চুরি করেছে তাকে কি ধরবো না? আমাদের আইনের প্রয়োজন আছে। সাইবার জগত সুরক্ষা ও নিরাপদ করার জন্যই সাইবার নিরাপত্তা আইন।’

আইনমন্ত্রী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোতে বেআইনি প্রবেশ ও হ্যাকিং বন্ধে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যে ধারাগুলো জামিন অযোগ্য করা হয়েছে সেগুলোও জামিনযোগ্য হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু আইন রহিত করা হচ্ছে তাই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কেউ সাজা পেলে সাজার পরিমান নতুন আইনে হতে পারে।’

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য প্রযুক্তি ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘আগামী ২ সপ্তাহ প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইনের ওপর মতামত গ্রহণ করা হবে। নিরাপদ সাইবার স্পেস তৈরির জন্যই সাইবার নিরাপত্তা আইন করা হচ্ছে। এছাড়া উপাত্ত সুরক্ষা আইনও খরা হচ্ছে। উপাত্ত সুক্ষা আইনে অর্থদণ্ডকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবিরসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

 

একাত্তর/কেএসএইচ

সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান ফিরে আসার রায়ে জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ...
প্রবীণদের কল্যাণে এবারের বাজেটে প্রথমবারের মতো সরকার রেলের ভাড়া মওকুফ ও মেট্রোরেলে ছাড়সহ বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) এ পর্যন্ত মোট ৮০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী...
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের আসামি শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সেই স্নায়ুক্ষয়ী মহাকাব্যিক ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে গুঁড়িয়ে দেওয়ার রাতে বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মানের মুকুট মাথায় তুললেন স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে পুরো ম্যাচ জুড়ে বোতলবন্দি করে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের রাতেই টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের মুকুট মাথায় তুলেছেন উনাই সিমন। পুরো টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষের...
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন চূর্ণ করে স্পেনের ট্রফি উদযাপনের রাতেই বিশ্বমঞ্চে রচিত হলো আরও এক সোনালী ইতিহাস। রোববারের সেই রক্তক্ষয়ী ফাইনালে আলবিসেলেস্তেদের ১-০ গোলে হারিয়ে...
নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘতম মহাযজ্ঞের অবসান ঘটল এক চরম নাট্যমঞ্চের মধ্য দিয়ে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে ১-০ গোলে গুঁড়িয়ে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর