ঢাকার কেরানীগঞ্জে শাক্তা ইউনিয়নের ঘাটারচর ও সুজন হাউজিংয়ে পুলিশ হেরোইন তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ওই দুই জায়গায় অভিযান চালিয়ে দুই কেজি হেরোইনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, গোপন খবরের ভিত্তিতে আটিবাজার ইউসিবি ব্যাংকের সামনে অবস্থানরত আলী হোসেন ও হাবিবুল ইসলাম রানা নামে দুই যুবকের হাতে দুইটি আটার প্যাকেট দেখে তাদের সন্দেহ হয়। এসময় তাদের তল্লাশি করে দেখা যায় যে, ওই দুই প্যাকেটের মধ্যে এক হাজার পুরিয়া হেরোইন রয়েছে। তাদের পৃথক পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়।
ওসি জানান, এসব তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ আরশিনগরের লেকসিটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসডি মহলের চতুর্থ তলায় একটি হেরোইন তৈরি, প্যাকেজিং ও বাজারজাতকরণ কারখানার সন্ধান পায়। কারখানা থেকে হেরোইন প্রস্তুত ও প্যাকেজিংয়ের সঙ্গে জড়িত হেলাল মিয়া ও বিপ্লব মিয়াকে এক কেজি হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া কারখানা থেকে হেরোইন প্রস্তুতের জন্য ব্যবহৃত ব্লেন্ডিং মেশিন, ইলেকট্রিক প্যাকিং মেশিন, ওজন মাপার ডিজিটাল মেশিনসহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়।
ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেরানীগঞ্জ সার্কেল) শাহাবুদ্দিন কবীর জানান, হেলাল ও বিপ্লবের তথ্য অনুযায়ী আটিবাজারের সুজন হাউজিংয়ের ১০ নম্বর রোডের সি-ব্লকের বাসার নিচতলায় তাদের অপর আরেকটি কারখানা আছে বলে জানা যায়। ওই কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিল্লাল হোসেন ও শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে এক কেজি হেরোইন উদ্ধার করা হয়। ওই কারখানা থেকেও হেরোইন প্রস্তুত ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত আনুষঙ্গিক বিভিন্ন মালপত্র উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: বেইলি ব্রিজ ভেঙে ট্রাক নদীতে, চালক ও হেলপার নিখোঁজ
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে কেরানীগঞ্জে ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়ে অভিনব কায়দায় হেরোইন ব্যবসা চালিয়ে আসছেন বলে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়। তারা হেরোইন প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন আটা-ময়দা ও মসলার প্যাকেটে প্যাকেজিং করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাজারজাত করে আসছিলেন।
একাত্তর/জো
