এশিয়া কাপের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে মিরপুরের প্র্যাকটিসে দেখা গেছে হেড কোচের নানা ছক। মিডিয়াকে মাঠের বাইরে রেখে ক্লোজড ডোর ট্রেনিং করানোয় সমালোচনাও হয়েছে বেশ। অথচ প্রথম ম্যাচেই পরিকল্পনাহীন, কেন ঘাবড়ে গেলো টিম বাংলাদেশ? তবে কী গেলো বারের মতো সবার আগে এশিয়া কাপ থেকে বিদায় নেয়ার শঙ্কায় টিম বাংলাদেশ।
আর অভিমান করেই নাকি কোচ-ক্যাপ্টেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন নাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

সবসময় কথা বলা, অনুপ্রেরণা কিংবা সান্ত্বনা দেয়া মানুষটাই শুক্রবার বাকরুদ্ধ্ব। তবে কি সাকিব আর হাথুরুর ওপর বোর্ড সভাপতি চরম বিরক্ত?
ক্যান্ডি ছাড়ার সময় সাকিবের মুখে ছিলো চওড়া হাসি এবং পাপনের চেহারায় টাইগারদের ব্যাটিংয়ের হাল স্পষ্ট। পাল্লেকেলেতে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পরে ব্যাটিং অর্ডার। ঢাকায় ওই কষ্ট কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে বোর্ড সভাপতিকে। আবারও কি এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়ার লজ্জায় পড়বে টিম টাইগার্স!

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান বলেছেন, সব ম্যাচেই যদি ক্লোজড ডোর প্র্যাকটিস করে আমরা চ্যাম্পিয়ন হই সবাই এতে সাপোর্ট দেবে। তাহলে বলবো প্রতিটাই ক্লোজড ডোর হোক। কিন্তু তাতো হওয়ার নয়। উনি করেছেন তা একটি প্ল্যান থেকে করেছেন। তবে তা কাজ করেনি। বাংলাদেশের অপরিকল্পিত ব্যাটিং আর ওইদিকে শ্রীলঙ্কার পরিকল্পিত বোলিং। ফলে আমাদের গ্যাপটা বড় হয়ে গেছে। তিন উইকেট পরে যাওয়ার পরে একটা অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। কিন্তু তিন উইকেট পরার পরেই তো আমাদের টিমের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা ক্রিজে এসেছে। মুশফিক-সাকিবের আউটগুলোও কিন্তু গ্রহণ করতে কষ্ট হয়।
হেড কোচ হাথুরু আর স্পিন কোচ রঙ্গনা হেরাথ দুই লঙ্কানও কি ক্যান্ডির কন্ডিশন বুঝতে পারেননি? পিচ সম্পর্কে ধারণা কম, বৃষ্টির হওয়ার সম্ভাবনা জেনেও কেন টস জিতে আগে ব্যাটিং নেওয়া। প্রথম চার ব্যাটারই বাঁহাতি, চাইলে কি হৃদয়, মুশফিক কিংবা মিরাজকে আগে নামিয়ে লেফট রাইট কম্বিনেশন করা যেত না? এক ম্যাচে একাধিক সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ।
রকিবুল হাসান আরও বলেছেন, বাঁহাতি ব্যাটাররা যদি দলের টপ ব্যাটার হয় তাহলে আপনি কি করবেন। তখন তাদেরই খেলাতে হবে।

তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের নম্বর অনেক সময় ফিক্সড থাকে। ডানহাতের কাউকে আনলে সে যদি যোগ্য না হয় বা নতুন বল খেলার জন্য তার পরিপক্বতা নেই। সবাই নতুন বল খেলতে পারেনা। তবে কাল আমাদের কোনোটিই হয়নি। আমাদের উচিত ছিলো প্ল্যান বি-তে চলে যাওয়া। এটি ৩০০ রানের উইকেট না। সর্বোচ্চ ২৫০ রান নেয়া যেতো। এ প্ল্যানটা আমরা মিস করেছি।
বড় হারের ক্ষত নিয়েই, লম্বা জার্নি করে পাকিস্তানের লাহোরে বাংলাদেশ। দিন তিনেক ক্যান্ডিতে থেকেও কন্ডিশন বুঝতে ব্যর্থ, তাহলে লাহোরে কেবল একদিন প্র্যাকটিস করে আফগানিস্তান বাঁধা কি টপকানো সম্ভব? নাকি আগেভাগেই দেশের বিমান ধরতে হবে সাকিবদের? তা বুঝা যাবে তিন সেপ্টেম্বরের ম্যাচে।
