সরকারের উন্নয়নে ভর করে এবারও হবিগঞ্জ-৩ আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে জিততে চায় আওয়ামী লীগ। এক সময়ের জাতীয় পার্টির ঘাঁটি, এখন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত। ২০০১ থেকে আসনটি ধরে রেখেছে আওয়ামী লীগ। এই আসনে ২০০১ এর এমপি সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যায় অভিযুক্ত বিএনপি নেতা জি কে গউছ তার দলীয় প্রার্থী।
বিএনপিও চাইছে আসনটি নিজেদের দখলে নিতে। বিএনপি নেতাকর্মীরা দাবি করেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে গউছই জিতবেন। জাতীয় পার্টিও চাইছে ঘাঁটি পুনরুদ্ধার করতে। সেভাবেই তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এছাড়া এই আসনে বাকি অন্যান্য দলের নেতাদের তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না।
লাখাই, শায়েস্তাগঞ্জ এবং সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-৩। কৃষি প্রধান জেলা হবিগঞ্জের উৎপাদিত আউশ-আমন-বোরো এলাকার চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছে বাইরের জেলাগুলোতেও । ভোটাররা জানান, যোগাযোগের জন্য সড়কের উন্নয়ন তাই সরকারের রুটিন কাজ।
কিন্তু সেখানেও সদর আসনটি ছাড়া আশানুরুপ উন্নয়ন হয়নি। শতভাগ বিদ্যুৎতায়নের কথা বলা হলেও গ্রাহকের ঘরে সেই সুবিধা থাকে দিনের কম সময়ই। শহর কেন্দ্রিক এই এলাকার মানুষের আরও প্রত্যাশা পুরো জেলার অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নজর দিতে হবে।
নগরের কিছু রাস্তাঘাটসহ মেডিক্যাল কলেজ, কৃষিবিশ্বাবিদ্যলয়, বৃন্দাবন কলেজে অনার্স মাস্টার্স কোর্স চালু সহ বেশ কিছু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পুরণ করেছে আওয়ামীলীগ। যদিও মেডিক্যাল কলেজে রয়েছে শিক্ষক সংকট। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি নিয়ে রয়েছে সমালোচনা।
এই আসনে বেশ কিছু শিল্প কারখানা গড়ে উঠায় বেড়েছে কর্মসংস্থান। তবে দ্রব্যমুল্যের চাপে আছে মানুষ। আর, এই পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আসছে দ্বাদশ নির্বাচন। ঘর গোছাচ্ছেন সবাই। নতুন দল বলছে রাজনৈতিক সংস্কারের কথা। তবে বড় দলগুলোকে মাঠের রাজনীতি ঠিক রাখতে মনযোগ দিতে হচ্ছে গৃহবিবাদ বন্ধে । সদর আসনের এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ একনায়কতন্ত্র, স্বজনপ্রীতি আর দুর্নীতির।
গত তিনবারের নির্বাচনে এ আসনে জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু জাহির। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিও। আগামী নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন, এমনটাই নিশ্চিত। তবে শক্তিশালী নেতা হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগ নেতা মোতাচ্ছিরুল ইসলাম। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তিনি ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
এই নেতার সমর্থকদের ধারণা, এবার তিনিই মনোনয়ন পাচ্ছেন। তবে তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, প্রার্থী যাচাইয়ে ভুল হলে খেসারত দিতে হবে দলকে। এছাড়া আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি) আবুল হাশেম মোল্লা মাসুম এবং ইংল্যান্ডপ্রবাসী সুশান্ত দাস গুপ্ত।
আবু জাহির বলেন, দল আমাকে তিনবার মনোনয়ন দিয়েছে। প্রতিবার বিজয়ী হয়েছি। দল যদি মনে করে, আমাকে মনোনয়ন দিলে বিজয়ী হওয়া সম্ভব, তাহলে মনোনয়ন দেবে। নির্বাচন করতে আমি প্রস্তুত। দল অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে তাঁর পক্ষেও কাজ করতে প্রস্তুত। এককথায় নৌকা যাঁর, আমরা তাঁর।
বিএনপি নির্বাচনে গেলে কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ও হবিগঞ্জ পৌরসভার টানা তিনবারের মেয়র জি কে গউছ হতে পারেন দলটির মনোনীত প্রার্থী। তবে তিনি ছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এনামুল হক সেলিম এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ড্যাবের সভাপতি ডা. আহমুদুর রহমান আবদাল।
বিএনপির জি কে গউছ বলেন, বর্তমানে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। পরিবেশ হলে দলীয় মনোনয়ন বোর্ড যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে নির্বাচন করব। গত নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলাম, কিন্তু কারচুপির মাধ্যমে আমাকে পরাজিত করা হয়েছে।
জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রকৌশলী এম এ মুনিম চৌধুরী বুলবুল। এ ছাড়া এই আসন থেকে আরও মনোনয়ন চাইতে পারেন গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল বারী চৌধুরী এবং ইসলামী আন্দোলনের নেতা মহিব উদ্দিন আহমেদ সোহেল।
এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৯ জন। বেশিরভাগ ভোটার মনে করছেন, এবারও নির্বাচন ২০১৮ সালের মতো হতে পারে। বিএনপি নির্বাচনে গেলে মাঠ একটু গরম থাকবে। নির্বাচনী আমেজ আসবে। তাঁরা সেটাই চাইছেন। তাঁদের মতে, বিএনপি এলেও আওয়ামী লীগই জয়ী হবে।
