অভিযান চালিয়েও আলু-পেঁয়াজের সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর করতে পারছে না ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অধিদপ্তর বলছে, দাম কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ভোক্তা স্বার্থে তাদের অভিযান অব্যহত থাকবে। তবে, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাব বলছে, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে দাম বেঁধে দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
১৪ সেপ্টেম্বর সরকার আলুর কেজি সর্বোচ্চ ৩৬ এবং দেশি পেঁয়াজের কেজি ৬৫ টাকা বেঁধে দেয়ার পরপরই, হিমাগার থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা বাজার এবং সুপারশপে নিয়োমিত অভিযান করছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সেই সাথে জরিমানাও করা হচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীদের।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখনও পাইকারিতে আলু ৪২ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৮ টাকা কেজি। খুচরা বাজারে এখনও আলু ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ৮৫ টাকা কেজিতে।
এক বিক্রেতা বলেন, ‘সরকার যে দাম বেঁধে দিয়েছে ওই দামে আমরা পাচ্ছি না। ওই দামে না পেলে কীভাবে বিক্রি করবো।’
বাজারের এক ক্রেতা বলছেন, ‘আমাদের আয় বাড়েনি কিন্তু জিনিসের দাম বেড়েই চলছে। বিশেষ করে খাবারের দাম। খাদ্যপণ্য কেনাটাই কষ্টের হয়ে উঠছে। আমরা হিমশিম খাচ্ছি।
‘খাদ্যপণ্য কিনতে গেলেই বেতনের টাকা শেষ হযে যাচ্ছে। কী করবো। এর বাইরে সন্তানের শিক্ষার খরচ, বাসাভাড়া এসব দিতে হয়। আমাদের হিমশিম অবস্থা। সরকার কিছু পণ্যের দাম বেঁধে দিয়েছে। তারপরেও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। জানি না এটা কেন হচ্ছে।’
বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রথমবারের মতো ডিম, আলু ও দেশি পেঁয়াজের দাম বেঁধে দেয় সরকার। সরকারের নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিটি ফার্মের ডিম ১২ টাকা, আলু খুচরা পর্যায়ে ৩৫-৩৬ টাকা (হিমাগার পর্যায়ে ২৬-২৭) এবং দেশি পেঁয়াজের দাম হবে ৬৪-৬৫ টাকা।
ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণে দশ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। তবে তাতেও বাজার এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আশা করা হচ্ছে, ভারত থেকে ডিম এলে দেশের বাজারে দাম কিছুটা কমবে।
একইভাবে আলু-পেঁয়াজের দাম কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাজধানী ছাড়াও দেশের ৩০ জেলায় ভোক্তা অধিদপ্তরে ৩৮টি টিম কাজ করছে। আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে বাইরে আমদানির কথাও ভাবা হচ্ছে।
তবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অবশ্য বলছে, নির্ধারিত দাম কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক মাগফুর রহমান একাত্তরকে বলেন, ‘বিক্রেতাদের আমরা বলেছি, তারা যদি পাইকারি বা হিমাগার থেকে নির্ধারিত দামে কিনতে না পারে সেক্ষেত্রে যদি আমাদের সহযোগিতা চায় তবে আমরা ব্যবস্থা করে দেব।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাব বলছে, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে দাম বেঁধে দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করাটা প্রায় অসম্ভব।
ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘মুক্তবাজার অর্থনীতি, ব্যবসাবান্ধব বলছেন। অন্যদিকে দাম নির্ধারণ করে দেবেন। এটা কতটা যৌক্তিক? আইন তখনই বাস্তবায়িত হবে যখন আইন বাস্তবায়নের পরিবেশ থাকে। না হলে মানুষের লোভের কাছে সবকিছু পরাজিত হবে। দেশে এখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি পরিবেশ বিরাজ করছে।’
অতি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে পণ্য আসবে না বলেও মনে করেন ক্যাব সভাপতি।
বেঁধে দেয়া দামে বিক্রি হচ্ছে না ডিম, আলু ও পেঁয়াজ
সরকারের ঠিক করা দাম পাত্তাই দিচ্ছে না আলু ব্যবসায়ীরা
রাজধানীতে আলু এখনও ৫০ টাকা কেজি 