বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে স্থায়ী মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে যে আবেদন করা হয়েছে তা বিবেচনায় নিতে আহবান জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে এ আহ্বান জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। বিদেশে নেয়ার জন্য খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে যে আবেদন করা হয়েছে তা বিবেচনায় নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
শর্ত সাপেক্ষ মুক্ত থাকা খালেদা জিয়াকে স্থায়ী মুক্তি দিয়ে বিদেশে পাঠানোর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের ভাই শামীম ইস্কান্দার।
মতামতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই আবেদন আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
দুটি দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড পাওয়া বিএনপির খালেদা জিয়া শর্তসাপেক্ষে মুক্তিতে রয়েছেন। তার মুক্তির দুই শর্তে রয়েছে, তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং বিদেশে যেতে পারবেন না।
মুক্তির মেয়াদ ছয় মাস পর পর বাড়ানো হয়। গত মার্চে সপ্তমবারের মতো আরও ৬ মাস বাড়ানোর পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর তার মুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর অষ্টমবারের মতো ছয় মাসের জন্য আরেকদফায় বাড়ানো হয়, যা কার্যকর হয়েছে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে।
এদিকে ৭৮ বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেড় মাস ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হৃদরোগ, লিভারসিরোসিস, আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন তিনি।
এদিকে পল্টনের সমাবেশে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেছেন, আওয়ামী যদি আবারও ক্ষমতায় আসে তাহলে এই দেশের মানুষের কোন নিরাপত্তা থাকবে না। দেশের মানুষ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়।
কিন্তু নিজের অহংকার ও প্রতিশোধ পরায়ণ মনোভাবের কারণে শেখ হাসিনা সেই দাবি মানছেন না বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।
খুনিদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে কানাডা: মোমেন