বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর সুপারিশ করেছেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা। তারা জানিয়েছেন, লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত খালেদা জিয়ার কিডনিসহ আরও সমস্যা থাকায় এখানে তেমন চিকিৎসা করা যায়নি। এই মুহূর্তে লিভার সিরোসিসের চিকিৎসায় লিভার প্রতিস্থপানে তাকে বিদেশে নেওয়া জরুরি।
সোমবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা এ কথা জানান।
মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য এফএম সিদ্দিক জানান, খালেদা জিয়ার লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করা প্রয়োজন। সবশেষ ৯ আগস্ট থেকে তার অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে তার আবার ফুসফুসে সংক্রমণ পাওয়া গেছে, যার জন্য তাকে সাম্প্রতিক দুই বার সিসিইউতে নেয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, বাস্তবে যতোটা চেষ্টা করা যাচ্ছে, উনার অবস্থা তারচেয়ে খারাপ। এই মুহূর্তে তার চিকিৎসার জন্য এখানে আর ভালো উপায় নেই। আজকে আবারও জানানো হচ্ছে, যদি বিদেশের ভালো কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা করানো যায় তাহলে তিনি ভালো হতে পারেন, এখনও কিছুটা সময় আছে তার জন্য। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সব চিকিৎসা তার জন্য শেষ। জরুরি ভিত্তিতে তার লিভার ট্রান্সপ্লান্ট প্রয়োজন, যেটা বাংলাদেশে হয় না। তার পেটে, বুকে পানির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এখানে যে সেটাপ প্রয়োজন হয় সেগুলো বাংলাদেশে নেই। উনার (খালেদা জিয়া) মতো এতো ক্রিটিকাল রোগীকে বাংলাদেশে করার মতো সেটাপ তৈরি হয়নি।
প্রফেসর নুরুদ্দীন আহমেদ জানান, লিভার সিরোসিসের মারাত্মক যতো বিষয় থাকে উনার সবগুলো সমস্যা রয়েছে। লিভার সিরোসিসে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি। বুকে আর পেটে পানি যতো দিন থাকবে ততদিন মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকবে। এই জটিল অবস্থার মধ্যে তাকে কোনোভাবেই আর বাসায় পাঠানো যাচ্ছে না। বাংলাদেশের চিকিৎসকদের হাতে উনার জন্য আর কোনো উপায় নেই। অনেক উচ্চ মানের অ্যান্টিবায়োটিকও কাজ করছে না। যেকোনো মুহূর্তে তার মৃত্যু ঝুঁকি এখন অনেক বেশি।
শাহাবুদ্দিন তালুকদার জানান, শুক্রবার বিকালে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কেবিন থেকে সিসিইউতে নেওয়া হয়। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পরে আবার কেবিনে নেওয়া হয় হয়।
গেলো ৯ আগস্ট থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরইমধ্যে গত দুই সপ্তাহে খালেদা জিয়াকে শ্বাসকষ্টের কারণে দুই দফায় সিসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। গত বছরের জুনে খালেদা জিয়ার এনজিওগ্রাম করা হলে তার হৃদযন্ত্রে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর একটিতে রিং পরানো হয়। বেগম খালেদা জিয়ার বাঁচার আশা মাঝে মাঝেই ছেড়ে দিতে হয় চিকিৎসকদের।
ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ২০১৮ সালের আগে খালেদা জিয়ার এতো সমস্যা ছিলো না। তিনি পায়ে হেঁটে আলিয়া মাঠের কোর্টে হাজির হয়েছেন। লিভার ট্রান্সপ্লান্ট এখানে কখনই করা হয়নি। এর আগে দুইবার লিভার ট্রান্সপ্লান্টের চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু অপারেশনের পর সেই রোগীদের পরিণতি কি হয়েছিল তা অনেকে জানেন না। এই দেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করা যায় না। তাকে বিদেশে না নিলে এই চিকিৎসা সম্ভব না।
খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার ও হৃদরোগে ভুগছেন। ২০২১ সালের এপ্রিলে করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে কয়েকবার নানা অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে খালেদা জিয়াকে।
আইনের দোহাইয়ে মৃত্যুর মুখে খালেদা জিয়া: ফখরুল
খালেদা জিয়ার বিষয় আইনি, রাজনীতির সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী