মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর মাঝখানে ছোট্ট একটি ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল। ৭৫ বছরে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি বা সামরিক দিক দিয়ে বিশ্বে একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে দেশটি। আর এটা সম্ভব হওয়ার পেছনে পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষ করে আমেরিকার একটা বড় অবদান আছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের অন্যতম পরমাণু শক্তিধর দেশ ইসরাইল। তারাই একমাত্র দেশ যারা শুধুমাত্র ধর্মের ভিত্তিতে সরাসরি নাগরিকত্ব দেয়, সেটা পৃথিবীর যে প্রান্তেরই ইহুদি হোক না কেন।
ইসরাইলের এতটা শক্তির পেছনে পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে আমেরিকার একটা বড় অবদান আছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আমেরিকার বৈদেশিক সহায়তার সবচেয়ে বড় অংশ পেয়ে আসছে ইসরাইল।
তবে, ইহুদিদের জন্য নিজস্ব একটি ভূখণ্ড থাকার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে এসেছিলো ব্রিটিশ সরকারের তরফ থেকেই। তখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইহুদিরা দলে দলে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে আসতে থাকে। এনিয়ে আরব ও ইহুদিদের দ্বন্দ্বও বাড়তে থাকে। ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে তখন মুসলিম ছাড়াও খ্রিস্টানের বসবাস ছিল।
ইহুদিদের বসতি গড়ে তোলার প্রেক্ষাপটে আরবরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এই বিক্ষোভ দমনে ব্রিটেন নির্যাতনও চালায় আরবদের ওপর।
পরবর্তীতে ইসরাইল রাষ্ট্র ঘোষণার পরও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ নানাভাবে তাদের সাথে ছিলো ফ্রান্স ও ব্রিটেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ছিল সেই দেশ যারা ইসরাইলকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়। ইসরাইল রাষ্ট্র যেদিন প্রতিষ্ঠা হয়, ঠিক সেদিনই স্বীকৃতি দিয়েছিল আমেরিকা।
ইসরাইলের জন্মই হয়েছে মূলত পরাশক্তিদের বিশাল সমর্থনে যা দেশটির ক্ষমতায়নে একটা বড় ভূমিকা রেখেছে। ইসরাইলের প্রতিবেশী মিশর, জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া, ফিলিস্তিন- সব কয়টি দেশ শত্রু হওয়া সত্ত্বেও ঠেকানো যায়নি ইসরাইলের উত্থান।

প্রতিবেশীদের সাথে তিনটি পুরোদমে যুদ্ধ এবং আরও বেশ কয়েকটি ছোটখাটো যুদ্ধ করেছে ইসরাইল। তবে, ইসরাইলের সামরিক ও প্রযুক্তিগত আধিপত্য পশ্চিমাদের কারণেই সম্ভব হয়েছে। যেমন- ইরানের প্রযুক্তিগত বিকাশ ঘটেছে আমেরিকার বিপরীতে, আর ইসরাইলের বিকাশ হয়েছে আমেরিকার হাত ধরে।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস-এর রিপোর্ট বলছে, ইসরাইলের প্রযুক্তিকে অত্যাধুনিক করতে প্রভাব রেখেছে আমেরিকা। ২০২৩ অর্থবছরে যৌথ সামরিক প্রকল্পে ৫২ কোটি মার্কিন ডলারের অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেস যার মাঝে ৫০ কোটি শুধু মিসাইল তৈরি খাতের জন্য।
আরব দেশগুলোর মাঝখানে টিকে থাকতে রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইল শুরু থেকেই চেয়েছে সামরিকভাবে শক্তিশালী হতে। ষাটের দশক থেকেই পরমাণু শক্তিধর হয়ে ওঠে ইসরাইল। ইসরাইল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বেশ গোপনে এগিয়েছে।
আর, এই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো যাতে পারমাণবিক শক্তি অর্জন করতে না পারে সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র ছিলো বদ্ধপরিকর।
ইসরাইলের পাল্টা হামলা মাত্র শুরু: নেতানিয়াহু
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে আবারও ইসরাইলি হামলা
ইসরাইলি হামলায় এক সপ্তাহেই ১১ সাংবাদিক নিহত
বিবিসি সাংবাদিকদের পেটালো ইসরাইলি পুলিশ