২০টি শর্ত জুড়ে দিয়ে রাজধানীতে একই সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে পছন্দের জায়গায় সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। দল দুইটির পছন্দ অনুযায়ী বিএনপিকে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সমানে এবং আওয়ামী লীগকে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ডিএমপি কমিশনারের পক্ষে স্পেশাল অ্যাসিসটেন্ট টু কমিশনার মোহাম্মদ নাজমুর রায়হানের সই করা চিঠিতে এ তথ্য দল দুটিকে জানানো হয়।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে দেওয়া ডিএমপির চিঠিতে জানানো হয়, ২০ শর্তে শনিবার দুপুর দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দল দুটি নির্ধারিত জায়গায় সমাবেশ করতে পারবে।
শর্তগুলো হলো-
১. এই অনুমতিপত্র স্থান ব্যবহারের অনুমতি নয়, স্থান ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে।
২. স্থান ব্যবহারের অনুমতিপত্রে উল্লেখিত শর্তাবলী যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
৩. অনুমোদিত স্থানের মধ্যেই সমাবেশের যাবতীয় কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
৪. বেলা ১২টার আগে কোনোভাবেই জনসমাগম করা যাবে না।
৫. নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক (দৃশ্যমান আইডি কার্ডসহ) নিয়োগ করতে হবে।
৬. নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সমাবেশে আগতদের হ্যান্ড হেন্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে (ভদ্রোচিতভাবে) চেকিং এর ব্যবস্থা করতে হবে।
৭. অনুমোদিত স্থানের বাইরে কোথাও লোক সমবেত হতে পারবে না।
৮. আযান, নামাজ ও অন্য ধর্মীয় সংবেদনশীল সময় মাইক/শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।
৯. ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাত আসতে পারে এমন কোনো বিষয়ে ব্যঙচিত্র প্রদর্শন, বক্তব্য প্রদান বা প্রচার করা যাবে না।
১০. অনুমোদিত সময়ের মধ্যে (দুপুর দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা ) সমাবেশ এর সার্বিক কার্যক্রম অবশ্যই শেষ করতে হবে।
১১. সমাবেশ সমাপ্তির পর ফিরে যাওয়ার সময় রাস্তায় কোথাও, কোনো সংক্ষিপ্ত সমাবেশ বা অবস্থান করা যাবে না।
১২. আদালতের সাজা পাওয়া কোনো ব্যক্তি সমাবেশে বক্তব্য বা তার কোনো বক্তব্য সমাবেশে প্রচার করা যাবে না।
১৩. রাস্তার বাম লেন ন্যূনতম ব্যবহার করে সমাবেশ করতে হবে এবং অন্য লেনগুলো কোনোভাবেই ব্যবহার করা যাবে না।
১৪. আইন-শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কার্যকলাপ করা যাবে না।
১৫. রাষ্ট্র বিরোধী কোনো কার্যকলাপ ও বক্তব্য দেওয়া যাবে না।
১৬. উসকানিমূলক কোনো বক্তব্য দেওয়া বা প্রচারপত্র বিলি করা যাবে না।
১৭. সমাবেশে ব্যানারের আড়ালে কোনো ধরনের লাঠি-সোটা বা রড সদৃশ কোনো বস্তু ব্যবহার করা যাবে না।
১৮. আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও কোনো বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে আয়োজনকারী কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেন।
১৯. উল্লিখিত শর্তাবলী যথাযথভাবে পালন না করলে তাৎক্ষণিকভাবে এই অনুমতির আদেশ বাতিল বলে গণ্য হবে।
২০. জনস্বার্থে কর্তৃপক্ষ কোন কারণ দর্শানো ছাড়াই এই অনুমতি আদেশ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।
এদিকে পুলিশের অনুমতি পাওয়ার আগেই বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেট এবং নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে বিকেল থেকেই অবস্থান নিতে শুরু করেন দুই দলের নেতাকর্মীরা। হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতির কারণে দুই এলাকায়ই কার্যত বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার নেতাকর্মীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তাতে কোনো কাজ হয়নি।
অন্যদিকে, বড় দুই রাজনৈতিক দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশমুখ এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) ড.খ. মহিদ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছেন, জামায়াতকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
নয়াপল্টনেই বিএনপির সমাবেশ, জানালো ডিএমপি
বায়তুল মোকাররমেই আওয়ামী লীগের সমাবেশ, জানালো ডিএমপি