রাজধানীতে মেট্রোরেলের পরিপূর্ণ সুবিধা চালু হলে বাড়বে সড়কের গতি। বাঁচবে কর্মঘণ্টা। ফলে বেড়ে যাবে দেশের জিডিপি। পাশাপাশি যানজটে আটকে থাকার কারণে আর্থিক ক্ষতিও কমবে বলে মনে করছেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হলে মাত্র ১২ শতাংশ নগরবাসী এর সুবিধা পাবে। নগরবাসীর একটি বড় অংশ এই সুবিধার বাইরে থাকায় র্যাপিড ট্রানজিট ও শাটল ট্রেনের মতো পরিবহন যুক্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
রোববার থেকে শুরু হচ্ছে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক যাত্রা। মাত্র ৩৮ মিনিটেই রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পাড়ি দিতে পারবেন নগরবাসী। দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার পথ এতো অল্প সময়ে পাড়ি দেয়া রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কে সময় বাঁচানোর বিষয়টি পাল্টে দেবে দেশের অর্থনৈতিক চিত্র। দেশের জিডিপির ৩৫ শতাংশের জোগান দেয় ঢাকা। রাজধানী মানুষের কর্মঘণ্টা বাড়ার মধ্যে দিয়ে এই অংশীদারিত্ব আরও বাড়বে।
নগর বিশেষজ্ঞ ইকবাল হাবিব মনে করেন, মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের এই বিস্তৃতি অবশ্যই সড়কের চাপ অনেক কমাবে।
তিনি বলেন, ৮০ শতাংশ মানুষ এখনও উন্নয়নের এই ধারা থেকে বঞ্চিত। তাদের বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ সাইফুল নেওয়াজ বলেন, যাত্রাপথে বিভিন্ন মোড় যেগুলো ছিলো- বিশেষ করে বাস ও অন্যান্য যানে তা এখন লাগবে না।
অর্থনীতিবিদ ড. মাসরুর রিয়াজ মনে করেন, এটি আমাদের রিসোর্স অপচয় কমাবে। যা আমাদের জিডিপির উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
নগরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় মেট্রোরেলের গুরুত্ব আছে। তবে আপাতত মেট্রোর এই সুবিধা পাবেন মাত্র ১২ শতাংশ নগরবাসী। প্রায় ২ কোটি মানুষের এই শহরে যা খুবই কম।
এজন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সমন্বিতভাবে তা বাস্তবায়ন করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
মেট্রোরেলের তিন স্টেশনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে