দলের পদে থেকে যারা স্বতন্ত্র আসন্ন সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন তাদেরকে দলীয় শৃঙ্খলার কথা মাথায় রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।
তিনি বলেছেন, নির্বাচনে সবসময় স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিল এবং থাকে। অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিতও হন। তবে যারা আমাদের দলের পদধারী স্বতন্ত্র প্রার্থী, তাদেরকে অবশ্যই দলীয় শৃঙ্খলা মাথায় রাখতে হবে।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
গত ২৬ নভেম্বর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে গণভবনে মতবিনিময় সভায় দলের নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী বা ডামি প্রার্থী হতে পারবে বলে সিদ্ধান্ত দেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা।
পাশাপাশি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ নির্বাচিত হয়ে আসলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
এরপর বিভিন্নস্থানে নৌকার মনোনয়ন বঞ্চিতরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও দলীয় পদে থেকে দলের প্রতীকের বাইরে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী হয়ে ভোটে দাঁড়ানোর সুযোগ কারোরই নেই।
তারপরও পদধারী আওয়ামী লীগের অনেক নেতা ও বর্তমান কয়েকজন সংসদ সদস্য মনোনয়ন না হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আর এসব প্রার্থীদের বিষয়ে দলের অবস্থান কী হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
হাছান মাহমুদ বলেন, সারাদেশে এখন নির্বাচনী আমেজ বইছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের মনোনয়ন ঘোষণা করেছে এবং তাদের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছে।
৪৪টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি দলেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে বলে জানান তিনি।
হাছান মাহমুদ বলেন, এর বাইরেও অনিবন্ধিত অনেক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। ইতিমধ্যে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, এতে বিএনপি হতাশ হয়ে গেছে।
‘নির্বাচনের জন্য প্রার্থিতা ঘোষণা, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা, জমা দেওয়া এগুলোর মাধ্যমে আসলে পুরো দেশ আজ নির্বাচনী আমেজের মধ্যে আছে।’
এই ডামাডোলের মধ্যে বিএনপি-জামাতের নির্বাচন বর্জনের যে ডাক সেটি হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। মানুষ এখন নির্বাচনমুখী হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বিএনপি এখন দৈব-দূর্বিপাকের উপর নির্ভর করছে। সরকারের পতন নিয়ে তো বহুদিন ধরে বিএনপি দিনক্ষণ ঘোষণা করে। তারা বলে, অমুক দিন সরকারের পতন হবে। গত বছর ৩০ ডিসেম্বর দিনক্ষণ ঘোষণা করেছিল। এ বছর ২৮ অক্টোবরও দিনক্ষণ ঘোষণা করেছিল।
এভাবে ঘোষণাটাই একটি সন্ত্রাসী ঘোষণা বলে মন্তব্য করেন হাছান মাহমুদ।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৭ আসনে (রাঙ্গুনিয়া-বোয়ালখালী আংশিক) আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী হিসেবে লড়বেন হাছান মাহমুদ। দলীয় কয়েকজন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যান তিনি।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চিশতি প্রমুখ নেতা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক মতবিভেদে ইসির কিছু করার নেই: সিইসি
স্বতন্ত্র প্রার্থী ‘ফ্রি স্টাইল’ হবে না: কাদের 