কোপা আমেরিকার ফাইনালে এবার বহুল প্রতীক্ষিত ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ। স্বাগতিকদের দল তারকা সমৃদ্ধ দলেও, আর্জেন্টিনার রয়েছে মেসি। জাতীয় দলের হয়ে প্রথম শিরোপা জয়ের শেষ সুযোগ তার সামনে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, আসরের সেরা দুই দলই ফাইনাল খেলছে। তাই, ফাইনালে ব্রাজিলকে সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হবে।
বিশ্ব ফুটবলের ওঝারা বলছেন, পাঁচ কারণে ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যেতে পারে ব্রাজিল। তাহলে একনজরে দেখা দেয়া যাক সেই পাঁচ কারণ।
নিপুণ গোলদাতার অভাব
আক্রমণভাগে নেইমারের মতো বিশ্বসেরা তারকা থাকলেও, ব্রাজিল দলে বেশ কিছু কাল ধরেই নির্দিষ্ট কোন গোলদাতা নেই। সেই রোমারিওর পর থেকে এই সমস্যায় ভুগছে ব্রাজিল।
সেলেকাওদের সবাই কম বেশি গোল করতে পারে বলে ব্রাজিল দল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে উতরে যায়। তবে আর্জেন্টিনার মতো বড় দলের বিরুদ্ধে এই সমস্যা বড় হয়ে দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন: শিরোপা জয়ে যখন মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল
ফাইনালে নেইমারকে পেলেও, সেস-পেনশনের কারণে ‘গ্যাবিগোল’ খ্যাত গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে পাচ্ছে না ব্রাজিল। ফলে সুযোগ হতে পারে রিচার্লিসন ও গ্যাব্রিয়েল বারবোসার। এই দুজনেই চলতি মৌসুমে ফর্মে নেই। কোপাতেও ভালো খেললেও কার্যকর নয়।
আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ খুবই শক্ত সামর্থ্য এবং শারীরিকভাবে শক্তিশালী। এই কারণে আক্রমণে নেইমারের প্রয়োজন দুই একজন যোগ্য সঙ্গী। যা এই মুহূর্তে নেই।
মধ্যমাঠে সৃজনশীলতার অভাব
বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিলের যত সব অর্জন তার পেছনে ছিলো, সৃজনশীল মধ্যমাঠ। বলা চলে মধ্যমাঠই ছিলো ব্রাজিলের প্রাণশক্তি। সেটিই হারিয়ে বসে আছে সেলেকাওরা।
লুকাষ পাকুয়েতার কিছুটা সৃজনশীলতা দেখালেও, অধিনায়ক কাসিমেরো এবং ফ্রেড, দুই জনেই রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার। তবে দুই জনেই কোপায় ভালো খেলছেন।
তবে আর্জেন্টিনার মতো দলের বিপক্ষে এমন মধ্যমাঠ নিয়ে বেশি সুবিধা আদায় করতে পারবে না ব্রাজিল। ফ্যাবিয়ানো ও ডগলাস লুইজ মধ্যমাঠে আরও দুই খেলোয়াড় হলেও সৃজনশীল নয়।
ব্রাজিলের নড়বড়ে রক্ষণভাগ
ব্রাজিল দলের রক্ষণভাগের সব খেলোয়াড়ই বিশ্বসেরা ক্লাবে খেললেও, জাতীয় দলের এই বিভাগে সমস্যা রয়েছে। ডানিলো ও অ্যালেক্স সান্দ্রো জুভেন্তাসের হয়ে মোটামুটি মানের একটি মৌসুম কাটালেও, জাতীয় দলে সার্ভিসটা ভালো দিতে পারছেন না।
তবে একমাত্র ভরসা এমারসন রয়্যাল। যিনি চলতি মৌসুমে ফর্মের তুঙ্গে রয়েছেন। আর রিনান লোদি তো অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের নিয়মিত একাদশে খেলতেই পারেনি।
আর্জেন্টিনা বেশিরভাগ আক্রমণ করে থাকে দুই উইং দিয়ে। বিশেষ করে মেসি ঢুকতে চেষ্টা করেন ডান দিক থেকে। বাঁ দিকে আছে ডি মারিয়ার মতো কুশলী ড্রিবলারও।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে সতর্ক বার্তা আর্জেন্টাইন পত্রিকায়
ফলে দুই প্রান্ত থেকে আলবিসেলেস্তেদের ধারালো আক্রমণ রুখে দেয়ার জন্য, কোচ তিতেকে খুব সাবধানের সঙ্গেই রক্ষণভাগের চার খেলোয়াড়কে বাছাই করতে হবে।
এমিলিয়ানো মার্তিনেসের ফর্ম
বর্তমানে এই গোলরক্ষক যেই ফর্মে রয়েছেন, তাতে তাকে বিশ্বসেরা বললেও ভুল হবে না। আর কলম্বিয়ার সঙ্গে টাইব্রেকারের পর মার্তিনেসের ক্ষমতা নেই আর কোন বিতর্ক চলে না।
আর্জেন্টিনার হয়ে চলতি বছরেও অভিষেক হলেও, ইংলিশ প্রিমিয়ার ফুটবলে নিজেকে সেরা হিসাবেই প্রমাণ করেছেন মার্তিনেস, যার রয়েছে ক্ষুরধার রিফলেক্স।
ফলে তাকে ফাঁকি দিয়ে গোল করাটা ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের জন্য খুব সহজ হবে না বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
দ্য মেসি ফ্যাক্টর
বলার অপেক্ষা রাখে শুধু ব্রাজিল নয়, বিশ্বের যে কোন দলের জন্যই মূর্তিমান আতঙ্কের এক নাম লায়োনেল মেসি। কি ক্লাব, কি জাতীয় দল- সব রক্ষণভাগের কাছেই তিনি ত্রাস।
আরও পড়ুন: শুধু ব্রাজিল নয়, আর্জেন্টিনার সামনে আরো তিন প্রতিপক্ষ
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা প্লেমেকার, শুধু নিজেই খেলেন না গোটা দলকেও খেলান। মাঠে তার উপস্থিতিই অনুপ্রাণিত করে দলের সবাইকে।
এবারের কোপায় দারুণ ফর্মে আছেন মেসি। চারটি গোল করেছেন, আচ পাঁচটি গোলে বানিয়ে দিয়েছেন। কোন কোন সময়ই তাঁকে আটকানোই কষ্টকর হতে দেখা গেছে।
এই ফর্ম ধরে রেখে মেসি একাই ব্রাজিলের কাছ থেকে ফাইনালের সব ক্যানভাস কেড়ে নিতে পারেন। আর তার জন্য মেসি যে মুখিয়ে আছেন, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
একাত্তর/আরএ
