কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত মারা গেছেন। তিনি সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে বুধবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে ১টা পর্যন্ত কুমিল্লা নগরের রামঘাটস্থ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে মেয়র আরফানুল হক রিফাতের মরদেহ রাখা হবে সর্বশ্রেণীর মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। শুক্রবার বাদ জুম্মা কুমিল্লা কেন্দ্রীয় ঈদগাহে মেয়র আরফানুল হক রিফাতের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার রাতে মরহুমের মরদেহ দেশে আসার কথা রয়েছে।
এর আগে গত রোববার বিকেলে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। বুধবার (৬ ডিসেম্বর) অক্সিজেন সেচ্যুরেশন কমে যাওয়ায় মেয়র রিফাতকে ঢাকায় শ্যামলীতে অবস্থিত বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত গত বছর ১৫ জুনের নির্বাচনে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। তিনিই কুমিল্লা সিটিতে প্রথম আওয়ামী লীগ থেকে বিজয়ী মেয়র।
আরফানুল হক রিফাত ১৯৫৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম এস এম আতাউল হক মায়ের নাম হাছিনা হক। পাঁচ বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ষষ্ঠ।
আরফানুল হক রিফাত ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগে যোগ দেন। ১৯৭৭-৭৮ সালে কুমিল্লা শহর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮১ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের বহিঃক্রীড়া ও ব্যায়ামাগার সম্পাদক ছিলেন।
১৯৯৬ সালে কুমিল্লা জেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব নেন। একই বছর তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন।
১৯৮১ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পর ছাত্র সংসদ কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি টাঙানোর কারণে পহেলা জানুয়ারি ১৯৮২ সালে জামায়াত-শিবিরের সাথে সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে আরফানুল হক রিফাতের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। মাথায় আঘাতের কারণে ৩২টি সেলাই লাগে তার। চিকিৎসার সময়ে তাকে ১৮ পাউন্ড রক্ত দেওয়া হয়। দেশের কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা করেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পাঠানো হয়।
জাফর উল্লাহ, নিক্সনের জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষায় ভোটাররা