রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে এখন টালমাটাল অবস্থা মিয়ানমারের। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিলো জান্তা সরকার। কিন্তু তাদের শাসন মেনে নিতে পারেনি দেশটির গণতন্ত্রকামী দল ও গোষ্ঠিগুলো। প্রতিবাদ থেকে জন্ম নেয় প্রতিরোধ। এতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আর বিদ্রোহীরা যোগ দিলে ভয়ঙ্কর গৃহযুদ্ধে ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশটিতে।
২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাদের দমনপীড়নে টিকতে না পেরে রাখাইনের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয় এখন বাংলাদেশে। যাদের একজনকেও নিজভূমে ফেরত নেয়নি জান্তা সরকার। অথচ এতো মানুষকে নির্যাতন করা জান্তা সরকারের সেনারা এখন মিয়ানমারেই একঘরে।
শহরের পর শহর বিদ্রোহীদের দখলে চলে যাবার ধারাবাহিতায় এবার রাখাইন অঞ্চলে নিজেদের আনুষ্ঠানিক বিজয় ঘোষণা করলো, বিদ্রোহী গোষ্ঠী- আরাকান আর্মির। গোষ্ঠীটি বলছে, রাখাইনের ১৪২টি জান্তা অবস্থান অর্থাৎ সেনাচৌকির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তারা। তার মানে রাখাইনের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৫টিরই নিয়ন্ত্রণ এখন আরাকান আর্মির হাতে। প্রতিবেশি চীন রাজ্যের পালেতোয়া টাউনশিপও নিয়েছে নিজেদের দখলে।
এখনো বিভিন্ন শহরে চলছে তুমুল সংঘর্ষ। অব্যাহত আছে বিমান হামলা। ধ্বংস হচ্ছে ঘরবাড়ি স্থাপনা। জান্তা সেনাদের হাতে বিনাকারণে আটক হচ্ছে বহু মানুষ। ১৩ নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত রাখাইনসহ আশপাশের শহর থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে এক লাখের বেশি মানুষ।
মূলত আরাকান আর্মির বেশিরভাগ সদস্য আসেন নৃতাত্ত্বিক বৌদ্ধ গোষ্ঠীগুলো থেকে। সাম্প্রতিক সহিংসতায় রাখাইনে মারাত্মক নৃতাত্ত্বিক বিভাজন স্পষ্ট হয়েছে, যা রাজ্যটিতে দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের ক্ষতের জন্ম দিয়েছে। রাখাইনে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে এক দশক আগে আরাকান আর্মি গঠিত হয়। তারা বিচ্ছিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে শোষিত হচ্ছেন বলে দাবি করছে সংগঠনটি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কাচিন বিদ্রোহীদের কাছে প্রশিক্ষণ নেয়া আরাকান আর্মি মিয়ানমারের জন্য সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। যেটি আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির চেয়েও বেশি শক্তিশালী। শুধু আরাকান আর্মিই নয়, মিয়ানমারে সরব বেশ কিছু ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র বিদ্রোহীরাও। শান প্রদেশে জান্তা বাহিনীর দখল থেকে পুরো একটি শহর ছিনিয়ে নেয়ার দাবি করেছে সশস্ত্র বিদ্রোহীদরা।
নামহসান নামের ওই শহর মিয়ানমারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। গেলো অক্টোবরে মিয়ানমার জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একজোট হয়েছিলো আরাকান আর্মি, মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি এবং তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি। জোটটি পরিচিতি পেয়েছে ‘থ্রি ব্রাদার্স অ্যালায়েন্স’ নামে।
এদের সঙ্গে জান্তার নিয়মিত সংঘাতে বিভিন্ন সেনা অবকাঠামো এবং চীন-মিয়ানমার বাণিজ্যের জন্য ব্যবহৃত কিছু কেন্দ্র দখল করে নেয় জোটটি। বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমারে ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশটিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে আছে বর্তমান জান্তা বাহিনী।
ইসরাইলে আবারো মিসাইল ছুঁড়লো হিজবুল্লাহ 