বাংলায় জনপ্রিয় এক বাগধারা- ঝিকে মেরে বউকে শেখানো! অর্থাৎ, কাউকে সরাসরি কিছু না বলে অন্য কোন কথা বা কাজের মাধ্যমে তাকে সেই কথা বুঝানো। এখন ইসরাইলের অবস্থা ঠিক সে রকমই। গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের নির্বাচনে হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে হামাসের পাশে দাঁড়ানো সব বন্ধু দেশ এবং সংগঠনের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে নেতানিয়াহুর ইসরাইলি সরকার।
ইরান সরকার, লেবাননের সামরিক গোষ্ঠী হিজবুলল্লাহ আর ইয়েমেতের বিদ্রোহী সামরিক শক্তি হুতি- এই পক্ষ তো ইসরাইলে রীতিমতো নাকানি চুবানি খাওয়াচ্ছে নানাভাবে। এরমধ্যে হিজবুল্লাহ আর হুতি জলে স্থলে সব জায়গায় মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইসরাইলের জন্য। আর হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুতি এই তিন গোষ্ঠীকে ইরান মদদ নিয়ে আসছে বলে বহুদিন ধরে নালিশ করছে তেল আবিব।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরাইল-ইরান স্নায়ুযুদ্ধ অনেক পুরনো। চলে পাল্টাপাল্টি হুমকি-ধামকি। তবে দিন বদলে গেছে। ইরান অতীতের যে সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। ইসরাইলের মতো তাদের হাতেও রয়েছে পারমাণবিক বোমা। চাইলেই ইরানের দিকে এক পা দিতে পারে না ইসরাইল। ভালো করেই জানে যে কোন আগ্রাসনের দাঁত ভাঙ্গা জবাব নিতে পারে তেহরান।

তাই ইরানের সঙ্গে সরাসরি না পেরে দেশটির পেছনে লেগেই থাকে ইসরাইল। বিশেষ করে তেহরান দু’তিন আগে এক মোসাদ গুপ্তচরকে ফাঁসিতে ঝুলানোর পর মাথা খারাপ হয়ে পড়ে ইসরাইলে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সংগঠনের প্রচারণায় সহায়তার লক্ষ্যে মোসাদ কর্মকর্তার কাছে গোপনীয় তথ্য তুলে দিয়েছিলেন। সেই অপরাধে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় তেহরান।
এই ঘটনায় ক্ষোভে রাগে ফুসলেও কিছু বলতে পারছিলো না। কিন্তু নেতানিয়াহু তো চুপ থাকার লোক নয়। তার দেশের হ্যাকার গোষ্ঠীকে লেলিয়ে দিয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে। সোমবার এক প্রতিবেদনে টাইমস অব ইসরাইল বলছে, ইরানের সবগুলো গ্যাস স্টেশনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইসরাইল সংশ্লিষ্ট একটি হ্যাকার গ্রুপ। গ্রুপটি গঞ্জেসকে দারান্দে বা প্রিডেটরি স্প্যারো নামে পরিচিত।
তাদের দাবি, ইরানের বেশিরভাগ গ্যাস পাম্পের কার্যক্রম স্থবির করে দিয়েছে তারা। সামাজিক মাধ্যমে দেয়া বার্তায় গ্রুপটি জানায়, এই অঞ্চলে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র এবং তাদের প্রক্সিদের আগ্রাসনের জবাবে সাইবার হামলা চালিয়েছে তারা। পাশাপাশি পার্সিয়ান এবং ইংরেজি ভাষায় দেয়া বিবৃতিতে তারা বলেছে, আগুন নিয়ে খেলার মূল্য চোকাতে হবে খামেনিকে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তেহরানের বেশ কয়েকটি গ্যাস স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে এর পেছনে কারণ স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে তারা। ইরান বলছে, সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে দেশটির জ্বালানি বিতরণ নেটওয়ার্ককে অচল করে দেয়া হয়েছিল। মঙ্গলবারে হওয়া এই সাইবার আক্রমণের পেছনে একটি বিদেশি দেশ রয়েছে বলে অভিযোগ ইরানের।
তবে ইরানের জ্বালানি তেল বিতরণ সংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, বুধবার থেকেই হ্যাকারদের কবল থেকে মুক্ত করে বেশিরভাগ গ্যাস স্টেশন চালু করা হয়েছে। প্রায় তিন হাজার স্টেশন ভর্তুকি-বিহীন দামে ‘অফলাইনে’ জ্বালানি বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছে। ইরানে বেশিরভাগ মানুষ সরকারের ভর্তুকি দেয়া দামে বিক্রি করা জ্বালানির ওপর নির্ভর করে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বলেছেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও জনজীবনে বিঘ্ন ঘটিয়ে মানুষের মনে ক্ষোভের সঞ্চার করার জন্য কেউ এ কাজ করেছে। তবে, সতর্কতার কারণে হ্যাকাররা এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারেনি। সময় মতো জড়িতদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারিও দিয়েছে তিনি।

প্রসঙ্গত, হামাসের সঙ্গে ইজরাইলের যুদ্ধ শুরু হলে নেতানিয়াহুর দেশকে বার বার হুমকি দিয়ে আসছে ইরান। এমনকি, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুতি জঙ্গিদের ক্রমাগত সাহায্য করছে ইরান। হিজবুল্লাহ এবং হুতি জঙ্গিদের শক্তিশালী করায়, তারা এক নাগাড়ে ইজরাইলের দিকে মর্টার ছুঁড়তে শুরু করেছে। কখনও সীমান্ত ধরে গুলিও চালাচ্ছে এসব সশস্ত্র সংগঠনগুলো।
ভারতের পার্লামেন্ট থেকে আরও ৩৩ এমপি বহিষ্কার