ভারতে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বা লোকসভার স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত ঘটানোর অভিযোগে আরও ৩৩ জন বিরোধী দলীয় এমপিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে লোকসভা থেকে এ নিয়ে মোট ৪৬ এমপিকে বহিষ্কার করা হলো।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের’ অভিযোগে সোমবার ওই এমপিদের লোকসভার শীতকালীন অধিবেশন থেকে বহিষ্কার করেন স্পিকার ওম বিড়লা।
সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তৃতার মাঝেই নতুন পার্লামেন্ট ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সরব হন বিরোধী এমপিরা। তুমুল চিৎকার শুরু হয় পার্লামেন্ট কক্ষে। এসময় সভার কাজ মুলতুবি করেন স্পিকার। কিন্তু এর পরেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় লোকসভার কংগ্রেস দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীসহ ৩০ জনের বেশি এমপিকে বহিষ্কার করেন স্পিকার।
বহিষ্কার হওয়া অন্য এমপিদের মধ্যে রয়েছেন- মমতা ব্যানার্জি নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অপরূপা পোদ্দার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, সুনীল মণ্ডল, সৌগত রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, প্রতিমা মণ্ডল, অসিত মাল ও শতাব্দী রায়। এছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন ডিএমকের তিন সাংসদ টিআর বালু, এ রাজা এবং দয়ানিধি মারান।
আগামী ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে শীতকালীন অধিবেশন। বহিষ্কার হওয়া এমপিরা শীতকালীন অধিবেশনে যোগ দিতে পারবেন না।
লোকসভা থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর অধীর চৌধুরী বলেন, বিজেপির সংখ্যাধিক্য রয়েছে। তাই দিয়ে সংসদে পেশিশক্তি দেখাচ্ছে। সংসদকে বিজেপি ও আরএসএসের কার্যালয়ে পরিণত করতে চাইছে।
এ কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, সংসদের নিরাপত্তা যেভাবে ভেঙে পড়েছে তাই নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করা হয়েছিল। তারা বাইরে অনেক কথা বললেও সংসদে কিছু বলছেন না। সেই প্রশ্ন তুললেই বিরোধীদের ওপর আক্রমণ নেমে আসছে।
এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর লোকসভায় শীতকালীন অধিবেশন শুরু হয়। ১৩ ডিসেম্বর অধিবেশন শুরু হওয়ার পরপরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা লঙ্ঘন করে দুই বিক্ষোভকারী পার্লামেন্ট ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং আইনপ্রণেতাদের টেবিলের ওপর উঠে ক্যানিস্টার স্প্রে করে। এসময় তারা ‘তানশাহি নেহি চালেগা’ অর্থ, ‘স্বৈরতন্ত্র চলবে না’ স্লোগান দেয়। পরে তাদের আটক করে পুলিশ।
১৪ ডিসেম্বর এ নিয়ে বিরোধী দলগুলো লোকসভা এবং রাজ্যসভায় নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়ে প্রতিবাদ জানায় এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি দাবি করে তোলপাড় সৃষ্টি করে। এসময় হট্টগোল সৃষ্টির অভিযোগে কংগ্রেস এমপি টিএন প্রথাপন, হিবি ইডেন, জোতিমনি, রাম্য হরিদাস এবং ডিন কুরিয়াকোসকে শীতকালীন অধিবেশনের বাকি কার্যক্রমের জন্য বরখাস্ত করেন স্পিকার। এরপরও হট্টগোল না থামলে আরও ৯ এমপিকে শীতকালীন অধিবেশন থেকে বরখাস্ত করা হয়।
এছাড়াও পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ অর্থাৎ রাজ্যসভা থেকে বহিষ্কার করা হয় তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি ডেরেক ও'ব্রাইনকে।
ভারতের পার্লামেন্ট থেকে ১৫ এমপি বহিষ্কার
বাইডেনের গাড়িবহরে আরেক গাড়ির ধাক্কা