নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এ কে এম সেলিম ওসমান বলেছেন, তার দল জাতীয় পার্টিকে বিশ্বাস করতে পারেনি বলে তাকে নৌকার পরিবর্তে লাঙ্গল দেওয়া হয়েছে। যাতে তার আসনের হাল ধরে রাখা যায়।
তিনি বলেছেন, আমাকে কেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পছন্দ করেন? আমিতো অ্যাপ্রোচ করিনি কোথাও। নির্বাচনের শুরুতে আমি বলেছি, উনি যদি হুকুম দেয় আমাকে নির্দেশ পালন করতেই হবে। কিন্তু আমাকেতো নৌকাও দেয়া যেতে পারতো। আমাকে লাঙ্গল কেন দেয়া হলো? কারণ বিশ্বাস করতে পারে নাই আমার দলকে। দলের হাল ধরে রাখার জন্য আমাকে লাঙ্গল দেওয়া হয়েছে। যাতে কেউ বেঈমানি না করতে পারে।
সোমবার সন্ধ্যায় শহরের ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনায় একথা বলেন তিনি।
সেলিম ওসমান বলেন, এখানে অত বড় কোনো প্রার্থী নেই যে জোর দিয়ে নির্বাচন করতে হবে। বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে হবে বাংলাদেশের মানুষও ভোট দিতে পারে। কিসের চল্লিশ, ষাট পার্সেন্টের কথা বলেন, শতভাগ ভোট কাস্ট করতে হবে।
নিজেদের প্রার্থী ঘোষণার সময়ই যে দুটি আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ফাঁকা রেখেছিলো তার একটা নারায়ণগঞ্জ-৫।
একাদশ সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ শরিক দল হিসেবে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেয়। লাঙ্গল প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সেলিম ওসমান। তিনি জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। এ ছাড়া তিনি পোশাক ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি।
সেলিম ওসমান প্রথমবার ২০১৪ সালে উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হন। তার বড়ভাই এ কে এম নাসিম ওসমান ছিলেন ওই আসনের সংসদ সদস্য। আসনটিতে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। সেলিম ওসমানের ছোটভাই এ কে এম শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য।
১৯৯৬ সালে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এস এম আকরাম। এরপর থেকে প্রায় দুই যুগ ধরে এ আসনে আওয়ামী লীগ কেউ সংসদ সদস্য হয়নি।
সেলিম ওসমান আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় বলেন, অনেকে ভাবছে এখানে নৌকা কেন দেয়া হয়নি। এটা কষ্ট পাওয়ারই কথা। কিন্তু এই কষ্টে ভুল ছিল কিনা সেটাও ভেবে দেখতে হবে। আমার সাথে একবার বসা উচিত ছিলো, কে নমিনেশন নেবে। আমার ভাইয়ের মৃত্যুর পর থেকে আমি এই আসনে দায়িত্ব পালন করছি। আমার ছোট বোন আইভীও বলেছে সেলিম ভাইকেই কেন নৌকা দিয়ে দেয়া হয় না। আমিতো রাজাকারের সন্তান না। আমার শিরায় শিরায় আওয়ামী লীগ। প্রতিটি মিটিংয়ে গিয়েছি, যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে নিয়ে এসেছি।
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপির ভাইদের বলতে চাই। আপনারা আমার সাথে কাজ করেছেন। আপনারা ভেবেছেন ২৯ তারিখ আপনারা ক্ষমতায় এসে পড়বেন। সেটা হয়নি। ফিরে আসুন আমাদের সাথে। ঘরের ছেলে ঘরে থাকেন। পরিবার নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকেন।
তিনি আরও বলেন, আমি ভবিষ্যত প্রজন্ম নিয়ে কাজ করেছি। একটা মানুষের কয়টা নাতি নাতনি হয়, আমার লক্ষ নাতি নাতনি। সবাই আমাকে দাদু বলে ডাকে। আমি দাদু হয়ে গেলাম। আমার বয়স নেই। এবার নির্বাচন করার প্রশ্নই ছিলো না।
সেলিম ওসমান বলেন, মনোনয়ন দেয়ার পর এই একটি আসন খালি ছিল। আমাকে বলা হল ঘরের ছেলে ঘরে থাকুক। আওয়ামী লীগ আমাকে ভালবাসে। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ নারায়ণগঞ্জে এসে বলে গিয়েছিলেন, এখানে দুটি পার্টি আছে। ওসমান পার্টি আর ওসমান লীগ। তিনি রংপুরে থেকে বুঝতে পারলে নারায়ণগঞ্জে থেকে তারা কেন বুঝতে পারছে না।
নারায়ণগঞ্জের এই আসনে সেলিম ওসমান ছাড়াও ভোটের মাঠে আছেন তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী আব্দুল হামিদ ভাসানী ভূঁইয়া, ইসলামী ফ্রন্টের এএমএস একরামুল হক এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির ছামছুল ইসলাম।
এসময় জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের ও দলটির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি তার প্রধান নির্বাচনীয় কেন্দ্র উদ্বোধন করেন।
ফিরোজ রশীদের দোয়া নিলেন সাঈদ খোকন
নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ১৫৪ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি