কাবুলের মসনদে তালেবান বসার পর থেকেই অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত আফগানিস্তান। জীবন-যাপনের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির মানুষেরা। এর প্রভাবে আফগানিস্তানে বেড়েছে গণবিয়ে। দেশটিতে ঐতিহ্যবাহী বিয়ের খরচ কমাতে এই পদ্ধতিতে বিয়ের চল এখন ঊর্ধ্বমুখী।
স্থানীয় সময় সোমবারও আফগানিস্তানের রাজধানীতে এক গণবিয়ে অনুষ্ঠানে ৫০টি যুগলের বিয়ে হয়েছে। তবে অনুষ্ঠান তেমন জাঁকজমক ছিলো না। এমনকি তালেবানি আইনের কারণে বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি কোন নারী। খাওয়া-দাওয়ার আয়োজনও ছিলো খুব সীমিত।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা- বিবিসি মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দুই বছর আগে আফগানিস্তানে তালেবান শাসন শুরুর পর থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান আড়ম্বর হারিয়েছে। নিষিদ্ধ করা হয়েছে নাচ ও গান। কারণ, দেশটির শাসকরা মনে করেন, এ ধরনের ক্রিয়াকলাপকে অ-ইসলামিক।
বিয়ের অনুষ্ঠানে যাতে কোন নারীকে দাওয়াত দেয়া না হয়, সেই নির্দেশনাও দিয়েছে তালেবান শাসকরা। দেশটির রাজধানী কাবুল বিমানবন্দরের কাছে সিটি স্টার বিয়ে বাড়ির সামনে প্রায় একশ’ পুরুষ ঐতিহ্যবাহী সালোয়ার-কামিজ ও পাগড়ি পরে দলে দলে দাঁড়িয়েছিল। সেখানে কোনো নারী উপস্থিত ছিল না।
একটি দাতব্য সংস্থা আয়োজিত অনুষ্ঠানে নবদম্পতিদের তাদের বিবাহিত জীবন শুরু করার জন্য কার্পেট এবং গৃহস্থালির যন্ত্রপাতিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করেছিল।

১৮ বছর বয়সি রুহুল্লা রেয়াজি বলেন, একক বিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের মতো সামর্থ্য তার নেই। ঐতিহ্য মেনে একক বিয়েতে বর্তমান খরচ দাঁড়িয়েছে ১০ থেকে ১৫ হাজার আফগানি।
সেলাব ফাউন্ডেশন এই অনুষ্ঠানের আয়োজক। তারা প্রতিটি দম্পতিকে যে অর্থ দিয়েছে, তা ১৬০০ ডলারের সমতুল্য, যা বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র এই দেশে একটা বড় অঙ্ক।
পুণ্যপ্রচার ও পাপ-প্রতিরোধ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এই গণবিয়ের অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন এবং কোরআন পাঠ করা হয়। তবে হবু বধূদের আলাদা জায়গায় দৃষ্টির আড়ালে রাখা হয়েছিলো।
