চরম ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশায় ভারতের রাজধানী দিল্লি ও উত্তর ভারতের অন্যান্য অংশে যানবাহন চলাচলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিল্লি বিমানবন্দরে সব রকমের উড়োজাহাজের ওঠানামা বন্ধ হয়ে যায়। একশ’রও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বিলম্বে ছেড়ে ২৫টি ট্রেন।
বুধবার ভারতের রাজধানী শহরটি চলতি মৌসুমের সবচেয়ে কুয়াশাচ্ছন্ন দিনের সাক্ষী হয়েছে। আগের দিন মঙ্গলবারও একই ধরনের ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিলো দিল্লি। কোনো কোনো স্থানে দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারে নেমে আসে। সেই কারণে বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। রাস্তায় গাড়ি চালাতে হয় আলো জ্বালিয়ে।
দিল্লিতে সফদরজঙ্গ অবসারভেটারি জানিয়েছে, সেখানে মাত্র ৫০ মিটার পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। পালামে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেখা যাচ্ছে ১২৫ মিটার পর্যন্ত। চিত্তরঞ্জন পার্কের মতো জায়গায় সাধারণত কুয়াশা খুব বেশি হয় না, সেখানেও ঘন কুয়াশার আবরণ রয়েছে। কিছুটা দূরের জিনিস দেখা যাচ্ছে না।
শৈত্যপ্রবাহ চলতে থাকায় দেশটির আবহাওয়া অফিস রাজধানীতে ঘন কুয়াশা নিয়ে একটি লাল সতর্কতা জারি করেছে। রাজধানীর বেশ কয়েকটি অংশে কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা আরও কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান এবং মধ্যপ্রদেশে ঘন কুয়াশার পূর্বাভাস আছে।
দিল্লিগামী ২৫টির মতো ট্রেনও ছাড়তে দেরি হয় বলে জানিয়েছে উত্তর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ । রাস্তাগুলোও ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকায় উত্তরপ্রদেশজুড়ে বেশ কয়েকটি সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। আগ্রা-লখনউ এক্সপ্রেসওয়েতে একাধিক যানবাহনের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন।

দিল্লিতে এমনিতেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পাঁচ থেকে সাতের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। এবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও অনেকটা কমে যেতে পারে। বছর শেষে বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। বছরের শুরুতেও দিল্লি প্রবল ধোঁয়াশার কবলে পড়েছিল। বছর শেষেও সেই ধোঁয়াশার হাত থেকে উদ্ধার পেল না রাজধানী।
দিল্লির বাসিন্দা সলিল নন্দী বলেন, আমর ধোঁয়াশা ও কুয়াশা নিয়েই বেঁচে আছি। এমনটা দিন কয়েক চলবে। আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। তবে বছর ৩৫ আগে দিল্লিতে যে রকম ঠান্ডা পড়ত, এখন আর সে রকম পড়ে না। তখন অক্টোবর হলেই কাঁপতে হতো। এই বছর তো এখনো সে রকম ঠান্ডা পড়েনি।
দিল্লির চিকিৎসক পার্থ প্রতীম বোস জানান, এ সময় খুবই সতর্ক থাকতে হবে। এই সময় যেন মর্নিং ওয়াক না করা হয়। রোদ উঠলে তখন হাঁটা সবচেয়ে ভালো। তাছাড়া শীত ও দূষণ যুক্ত হওয়ায় এই সময় শ্বাসকষ্টের রোগ অনেকটাই বেড়ে যায়। সেজন্য স্টিম ও গার্গল নিয়মিত করা উচিত।
ইউক্রেনে অন্যরকম লড়াইয়ে যুদ্ধাহত সেনারা