আওয়ামী লীগ গুপ্তহত্যার পরিকল্পনা করছে এমন দাবি করে দলের নেতা-কর্মীদের সর্তক থাকতে বললেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার বিকেলে অনলাইন ব্রিফিংয়ে বিএনপির মুখপাত্র রিজভী ওবায়দুল কাদের গুপ্তহত্যা নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তাকে এ ধরনের ঘটনার পূর্ব পরিকল্পনা বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘নিজেরা অপকর্ম করে অন্যের ঘাড়ে এর দায় চাপানোর যে রাজনীতি তারা সেটার আবারও পুনরাবৃত্তি করার চক্রান্ত করছে।’
ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় উদ্বেগ জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘বিএনপি নিয়ে ওবায়দুল কাদের যে মন্তব্য করেছেন তা ন্যাক্কারজনক, নিন্দনীয় এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচার বর্হিভূত।’
শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সাধারণ ওবায়দুল কাদের বলেন, গত ডিসেম্বর থেকে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করেছিল তারা, স্বাভাবিক আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে এখন নাশকতার দিকে গেছে। এখনও আমরা খবর পাচ্ছি, লন্ডন থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, গুপ্ত হত্যার দিকে তারা যাবে। এ নির্বাচনকে ঘিরে হয়তো দেখা যাবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ নেতা বা প্রার্থীকে লাশ বানানোর চক্রান্ত তাদের আছে।’
এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সবাইকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান কাদের।
সোমবার রিজভী আরও বলেন, ‘যারা গুপ্তহত্যা ও সন্ত্রাসের রাজনীতি করে তাদের মুখেই গুপ্তহত্যার কথা মানায়। সেজন্যই ওবায়দুল কাদের হয়তো তাদের নীলনকশার অংশ হিসেবে গুপ্তহত্যার বিষয়ে আগাম পরিকল্পনাটি বলে ফেলেছেন। তা না হলে তিনি কি করে জানলেন যে, বিএনপি গুপ্ত হত্যা ঘটাবে?’
রিজভী বলেন, ‘গত বছরের ২৯ অক্টোবর রাজশাহীতে দুজন চিকিৎসক এক রাতে নিহত হয়েছেন। কুমিল্লায় স্বেচ্ছাসেবক দলের জাকির হোসেনকে পুলিশ ধাওয়া করে। পরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। বিএনপির গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ২৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এগুলো কারা ঘটিয়েছে? অতএব প্রমাণিত হয় যে, এসব ঘটনা সরকারেরই পরিকল্পনা। ৭ জানুয়ারি নির্বাচন ঘিরে সরকারের এ ধরনের আরও কিছু জঘন্য পরিকল্পনা থাকতে পারে যেটি তারা কৌশলে বিএনপির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে জনমনে বিভ্রান্তির অপচেষ্টা চালালেও প্রকারন্তরে তাতে নিজেদের সর্বনাশা চক্রান্তেরই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনায় সেটির প্রমাণ পাওয়া যায়।’
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘আমরা দেশপ্রেমিক জনগণকে আওয়ামী লীগ সরকারের দূরভিসন্ধিমূলক নীল নকশা গুপ্তহত্যা ও নাশকতার চক্রান্ত সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। কেন না সরকার নিজেরাই কোনো না কোনো নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে এগোচ্ছে। এ বিষয়ে দলের নেতাকর্মীসহ সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’
এদিকে বিএনপির সমমনা দলগুলোর নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ ভয়ঙ্কর খেলায় নেমেছে। জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধে আওয়ামী লীগের নীল নকশা ভেস্তে যাবে।
পল্টন মোড়ে গণতন্ত্র মঞ্চের মিছিল ও সমাবেশ করে তারা। মূল দাবি ৭ জানুয়ারির ভোট বর্জন ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় । আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করে নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরই তাদের আন্দোলনের লক্ষ্য।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ২০১৪ ও ১৮ সালের মতো আরেকটি তামাশা, ভাগ-বাটোয়ারা, নির্বাচনের রঙ্গমঞ্চ এ দেশের মানুষ বরদাস্ত করবে না।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রদান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি আওয়ামী লীগকে সহিংসতার জন্য দায়ী করে বলেন, নিজেরা সহিংসতা করে বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপান। আবার এখন গুপ্তহত্যার নানারকম কথা-বার্তা বলে। এ ধরনের কাজ যদি হয় তবে বিরোধী দলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।
বিএনপি ও তাদের বেশ কয়েকটি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা, ভোট বর্জনের জন্য সাধারন মানুষের মধ্যে লিফলেট বিতরন করে।
গুপ্তহত্যার চক্রান্তে বিএনপি, সতর্ক থাকুন: কাদের