লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হুতি বিদ্রোহীদের সিরিজ হামলার জেরে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ইউরোপ আমেরিকায় যেতে হচ্ছে আফ্রিকা ঘুরে। ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে জাহাজগুলোর ১৪ থেকে ১৫ দিন বেশি সময় লাগছে। এতে শিপিং খরচ বাড়ছে ৬০ শতাংশের বেশি। বীমা প্রিমিয়ামও ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে থিংক ট্যাঙ্ক- জিটিআরআই।
লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা বৈশ্বিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এসব হামলার জেরে বিশ্বের বৃহৎ শিপিং কোম্পানিগুলো সমুদ্রপথের এই রুটে তাদের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মতো বৃহৎ শিপিং কোম্পানি মার্স্কলাইন লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল দিয়ে তাদের কন্টেইনার পরিষেবা বন্ধ করেছে।
লোহিত সাগরে ক্রমাগত হামলায় জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা শিপিং কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে এমএসসি, মার্স্কলাইন, সিএমএ–সিজিএম, কসকো ও হ্যাপাগ লয়েড। এই কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের আমদানি–রপ্তানি পণ্যের প্রায় অর্ধেক কন্টেইনার পরিবহন করে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, জাহাজগুলো অন্য পথে ঘুরে যাওয়ায় জ্বালানি এবং বীমা ব্যয়সহ সমুদ্র পরিবহনের সব খরচই বেড়েছে। তা আরো বাড়বে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। এসব কারণে বাংলাদেশসহ অনেক দেশের পণ্য আমদানি ও তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি খাত বিপর্যস্থ হতে পারে বলেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
লোহিত সাগর ছেড়ে বিকল্প রুটে কন্টেইনার পরিবহন হওয়ায় জাহাজ শিপিং কোম্পানিগুলো চার্জ বাড়িয়ে দেয়ায় চট্টগ্রাম এবং ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরগুলোর মধ্যে একটি ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের কন্টেইনার পরিবহনের চার্জই এরইমধ্যে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে খরচ দ্বিগুণও হয়েছে। এমন বৈরী পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যে ২২৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনবিসি।
বিশ্বের শিপিং কনটেইনার পরিবহনের ৩০ শতাংশসহ সব পণ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ এই রুটের মাধ্যমে হয়ে থাকে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া থেকে পশ্চিম এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের কিছু অংশের সঙ্গে বাণিজ্য লোহিত সাগরের রুটের ওপর নির্ভর করে।
গাজায় নিহতের সংখ্যা ২৩ হাজার ছাড়ালো