করোনা মহামারীর ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই শুরু হয়ে যায় পরবর্তী মহামারী নিয়ে গবেষকদের সতর্ক উচ্চারণ। ভরা হচ্ছিলো, করোনার চেয়েও মারাত্মক জীবাণু আসছে। ডিজিস ‘এক্স’ নামে আপাতত ডাকা হচ্ছে এই নতুন জীবাণুটিকে। এটি হতে পারে কোন ভাইরাস, কিংবা ব্যাকটেরিয়া, অথবা কোন ছত্রাক।
এসব আলোচনায় যখন মানুষের মধ্যে ভয়ের আতঙ্ক, ঠিক তখনই গাঁয়ে কাঁটা দেয়া খবর শুনালো গবেষকরা। বরফের তলায় ঘুমিয়ে থাকা করোনার চেয়ে অনেক গুণ ভয়ঙ্কর একটি ভাইরাস নাকি জেগে উঠতে পারে। এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। বলছেন, এটি এলে গিলে খাবে মানব জাতিকে।
বরফের তলায় চাপা ভাইরাস থেকে সৃষ্ট বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই ভয়ঙ্কর ভাইরাসকে বলা হচ্ছে ‘জম্বি ভাইরাস’। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানীরা বলছেন, গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমায়িত বরফ গলতে শুরু করেছে।

আর্কটিক পারমাফ্রস্ট গললেই ‘জম্বি ভাইরাস’ বেরিয়ে আসতে পারে। পারমাফ্রস্ট হল পৃথিবীর পৃষ্ঠের উপর বা নীচে একটি স্থায়ীভাবে হিমায়িত স্তর। কোথায় রয়েছে এই ভাইরাস, উত্তর মেরুতে যেসব বরফ গলতে শুরু করেছে, সেই বরফের তলাতেই লুকিয়ে থাকতে পারে জম্বি ভাইরাস। যা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ফ্রান্সের এইক্স মার্শেই বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনতত্ত্ববিদ জাঁ মিশেল ক্লাভেরি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে অতিমারীর আশঙ্কা কতটা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে জানা যাচ্ছে, মেরুপ্রদেশের বরফের নীচে বিপদ লুকিয়ে থাকতে পারে৷ যা ছড়িয়ে যেতে পারে। আর সেটি করোনা ভাইরাসের চেয়েও অনেক বেশি প্রাণঘাতী হতে পারে।
এই জিনতত্ত্ববিদ মনে করেন, এটি এমন একটি ভাইরাস, যা মানুষকে দ্রুত সংক্রমিত করতে পারে এবং তার থেকে নতুন কোনও রোগের জন্ম হবে। বরফ গলে বেরিয়ে আসলে এই ভাইরাস বায়ুমন্ডলেও ছড়িয়ে পরার সম্ভাবনা থাকতে পারে। এটি হলে নিঃশ্বাস নিলেও সেই আক্রান্ত হতে পারে মানুষ।

মাইকেল ক্লাভেরির সঙ্গে একমত পোষণ করে রটারডামের ইরাসমাস মেডিক্যাল সেন্টারের বিজ্ঞানী মেরিয়ন কুপম্যানস বলেছেন, আমরা জানি না জমাট বরফে কী ভাইরাস আছে। তবে আমি মনে করি, একটি সত্যিকারের ঝুঁকি রয়েছে। এসব ভাইরাস পোলিওর মতো অসুখের জন্ম দিতে পারে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ঠিক কী ভাইরাস বরফের নিচে রয়েছে তা এখনও পরিস্কার নয় । তবে এর আগে ২০১৪ সালে সাইবেরিয়ায় ক্ল্যাভারির নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী এমন এক ভাইরাসের খোঁজ পায়, যেটা আনুমানিক ৪৮ হাজার ৫০০ বছরের পুরনো। নতুন ভাইরাসটি তার থেকেই পুরনো হতে পারে।
তাই মনে করা হচ্ছে, ওই জীবাণুরা আচমকা জেগে ওঠতে পারে এবং যার থেকে মারাত্মক মহামারীর আশঙ্কা বাড়ছে। প্রাগৈতিহাসিক জীবাণুরা আচমকা জেগে উঠে মানবজাতির জন্য বিপদ সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের ভাইরাসকেই জম্বি ভাইরাস হিসেবে আখ্যায়িত করেন বিজ্ঞানীরা।

জম্বি ভাইরাসের জল্পনা আবারও উসকে দিলেন বিজ্ঞানীরা। করোনাকাল কোটি কোটি মানুষের জীবন ধ্বংস করেছে। সেই মহামারীর রেশ কাটতে না কাটতেই আবার নতুন অতিমারির আশঙ্কা। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীতে বহু অতিমারী এসেছে এবং প্রতিবারেই তার বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছে মানুষ।
