২০০৭ সালের ৯ জানুয়ারি দুনিয়ার সামনে প্রথম আইফোন নিয়ে আসেন স্টিভ জবস। ডিমান্ড সেজে’র পরিসংখ্যান বলছে, তখন থেকে এখনও পর্যন্ত ২৩০ কোটি ইউনিট আইফোন বিক্রি করেছে অ্যাপল। এর সক্রিয় ব্যবহারকারী আছে দেড়শ’ কোটিরও বেশি।
মাত্র ১৫ বছর আগে স্যান-ফ্রান্সিসকোর মসকোন কনভেনশন সেন্টারের মঞ্চে উঠে ইতিহাস সৃষ্টির ঘোষণা দিয়েছিলেন অ্যাপল প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস। একটি আইপড, একটি ফোন ও একটি ইন্টারনেট মোবাইল কমিউনিকেটরকে একসঙ্গে জুড়ে দেওয়া প্রথম ফোনটি কেবল ইতিহাসই গড়েনি, প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে গেছে অনন্য এক উচ্চতায়।
২০০৭ সালের ২৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রথম আইফোন এসেছিলো। তারপর প্রায় ২ দশকে ৪২টি মডেল বাজারে ছাড়ে অ্যাপল। ডিমান্ড সেজে’র গবেষণা বলছে, এখন পর্যন্ত ২৩০ কোটি ইউনিট আইফোন বিক্রি করেছে অ্যাপল। আর এর সক্রিয় ব্যবহারকারী আছে দেড়শ’ কোটিরও বেশি।
২০০৭ সালে যখন অ্যাপল বাজারে আসে তখন রাজত্ব চলছিলো নোকিয়ার। সে বছর অ্যাপল বিক্রি করেছিলো ১৫ লাখ আইফোন আর নোকিয়ার বিক্রি ছিল ৭৪ লাখ। তখন নোকিয়াকে অপ্রতিরোধ্য এবং অপরাজিত ভাবা হতো।
এই পরিসংখ্যানের পর হতাশার মধ্যে পড়েন আইফোনের বিনিয়োগকারীরাও। প্রশ্ন ওঠে অ্যাপলের বাজার দখল নিয়েও। বিনিয়োগকারীরা বলেন, নতুন পণ্য যখন বাজার দখল করতে পারলো না পুরনো হয়ে গেলে কীভাবে বাজার দখল সম্ভব।
এই অবস্থার পরিবর্তন হয় ২০০৮ সালে যখন অ্যাপ স্টোর আনে অ্যাপল। তখন তাল মিলিয়ে জনপ্রিয় হতে থাকে অ্যাপভিত্তিক ব্যবসা। অ্যাপল স্টোর সংযোজনের পরের বছর থেকেই অ্যাপলের বিক্রি বাড়তে থাকে।

২০১১ সালে বাজারে আসা আইফোন ফোরএসের মাধ্যমেই প্রথম মাইলফলক অর্জন করে অ্যাপল। ওই বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে আইফোন ফোরএস বিক্রি হয় ৫ কোটি ইউনিট। আর সে বছর সব মিলিয়ে আইফোন বিক্রি হয় ৭ কোটি ইউনিট। এর পরের বছর তা স্পর্শ করে ২০ কোটির ঘর।
২০১০ সাল থেকে বাজারে রাজত্ব করে আসছিলো স্যামসাং। সম্প্রতি স্মার্টফোনের বাজারে পরিবর্তন হয়েছে রাজার। মুকুট উঠেছে আইফোনের মাথায়। দীর্ঘ প্রতিযোগিতার পর ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ স্মার্টফোন বিক্রি করে অ্যাপল।
ইন্টারন্যাশনাল ডাটা কর্পোরেশনের মতে, বৈশ্বিক স্মার্টফোনের বাজারে ২০% অ্যাপলের দখলে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যে ইকো সিস্টেম অ্যাপল তৈরি করেছে তা স্যামসাং কিংবা বা অন্য কোনো ব্র্যান্ডের টপকানো সম্ভব নয়। বর্তমানে এআই মেশিন লার্নিং নিয়ে কাজ করছে অ্যাপল।
কাহিনীক: এবার গল্প শোনাবে মোবাইল ফোন