গেলো এক বছরের মধ্যে চলতি মাসে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বেড়েছে চালের দাম। অথচ কৃষকের গোলা কিংবা সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত চালের মজুদ আছে।
হঠাৎ করে চালের দাম বাড়ার কারণ খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রণালয়।
যদিও মাঠ পর্যায়ে কী পরিমাণ ধান চাল মজুদ রয়েছে তা না জেনে, এই পদক্ষেপের সাফল্য নিয়ে সন্দিহান সংশ্লিষ্টরা।
করোনার কারণে বাসাবাড়ির কাজটা গেছে আগেই, গত মাস থেকে দুই ছেলেও কর্মহীন। ভালমন্দ খাবার তো দুরে থাক চালই কিনতে পারেন না ডলি আকতার। কিন্তু ক্ষুধা সর্বগ্রাসী। তাই বাজারের অর্ধেক দামে টিসিবির চালের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা তার।
করোনাকালে নগদ অর্থ আর খাবারের কষ্টে আছেন ডলি আক্তারের মতো প্রায় আড়াই কোটি দরিদ্র মানুষ। চলতি মাসের শুরু থেকে মোটা আর মাঝারি চালের দাম বাড়ায় দিশেহারা এসব হত-দরিদ্র মানুষ।
জনসংখ্যা ১৬ কোটি হিসেবে প্রতি বছর আড়াই থেকে তিন টন খাদ্যশস্যের চাহিদা আছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, গত বোরো মৌসুমে অন্তত এক কোটি ৬০ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে।
সরকারের গুদামে এখন প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন। গেল ১ বছরে আমদানিও হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার মেট্রিক টন চাল।। সবমিলে পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলছে মন্ত্রণালয়।
এমন নিরাপদ খাদ্য পরিস্থিতিতেও খোদ খাদ্য-মন্ত্রণালয় বলছে, চলতি মাসেই চালের দাম বেড়েছে অন্তত ১০ শতাংশ। এজন্য মধ্যসত্বভোগীদেরকেই দুষছেন তারা। দোষীদের খুঁজতে জেলা প্রশাসকদের প্রধান করে কমিটিও গঠন করেছে এ মন্ত্রণালয়।
তবে ব্যবসায়ীদের মতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে বেসরকারি পর্যায়ে আমদানির সুযোগ না দিয়ে মধ্যসত্ত্বভোগীদের খুঁজতে যাওয়া কার্যকর কাজ হবে না।
আরও পড়ুন: ঈদের আগে কমেছে পেঁয়াজ-রসুন ও আদার দাম
একই সাথে বাজার স্থিতিশীল রাখতে মানুষের খাদ্য চাহিদা ও উৎপাদন তথ্যের প্রকৃত হিসাব জরুরি বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
একাত্তর/আরএ
