পাকিস্তানে ১৬তম সাধারণ নির্বাচনে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও নওয়াজ শরীফ উভয়ই নিজেকে বিজয়ী দাবি করেছেন। এর ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে আবারও সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশে নির্বাচন কমিশন গড়িমসি করছে, এমন অভিযোগে বিক্ষোভের নামার ঘোষণা দিয়েছে ইমরানের সমর্থকরা।
রোববার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক ডন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের কারাবন্দি নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত প্রার্থীরা সরকার গঠনের পরিকল্পনা করছেন। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ না হলে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভের নামার ঘোষণা দিয়েছে পিটিআই।
দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, রোববার পাকিস্তানজুড়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করবে পিটিআই।
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) অভিযোগ, সামরিক বাহিনীর সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে নেমেছে নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তানি মুসলিম লীগ। তারা নানাভাবে এ নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে।

পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের মোট আসন সংখ্যা ২৬৬টি। এর মাঝে ২৫৬টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, ইমরান খানের দল পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
এর আগে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্যে ইমরান খানের পিটিআই সমর্থিত ও অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৯৩টি আসনে বেসরকারি ফলাফলে এগিয়ে আছেন। নওয়াজ শরিফের পাকিস্তানি মুসলিম লীগ (পিএমএল-এন) এগিয়ে ৭৩টি আসনে। ৫৪ আসনে বিলাওয়াল ভুট্টোর পাকিস্তানি পিপলস পার্টি (পিপিপি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩৩টি আসন নিশ্চিত করেছে।
ডন বলেছে, বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে মোট ২৬৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। বেসরকারিভাবে এখন পর্যন্ত ২৫৯টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এখনও ৬টি আসনের ফল ঘোষণা বাকি রয়েছে। আর স্থগিত করা হয়েছে একটি আসনের নির্বাচন।

নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ৩৩ বছরের জেল সাজা পায়। এর পরেও ইমরান খান ও তার দল পিটিআই এই নির্বাচনী প্রতীক ছাড়াই এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। দলটির প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে এই নির্বাচনে অংশ নেন এবং বেশিরভাগ নির্বাচনী এলাকায় তারাই এগিয়ে রয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের আগের দিন দেশটিতে দফায় দফায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৮ জন, আহত হয়েছেন আরও অনেকে। নির্বাচন বানচালের জন্য এসব সহিংসতা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ক্ষমতাসীনরা।
এছাড়া বৃহস্পতিবার ভোটের দিন দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রদেশ খাইবার পাখতুনখাওয়া এবং বেলুচিস্তানে আলাদা বোমা হামলায় ছয় নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। তবে কে বাবা কারা এ হামলা চালিয়েছে তা জানা যায়নি।
পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলো বলছে, এবার কোনো দল এককভাবে সরকার গঠন করতে চাইলে তাদের ১৩৪টি আসনে জিততে হবে।
কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানে এবার কোনো দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নাও পেতে পারে। ফলে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।
২৫ কোটি মানুষের এই দেশটির ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো প্রধানমন্ত্রীই তার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী এই চক্র ভাঙতে পারবে কি না তা ভবিষ্যৎ বলবে।
বিমান হামলায় গাজার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছেলে নিহত
জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ রাজা চার্লস