করোনার প্রথম এক কোটি টিকার প্রতি ডোজ কিনতে খরচ হয়েছে গড়ে ৫শ’ টাকা। কিন্তু সেটি প্রয়োগ করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর খরচ করেছে আড়াই হাজার টাকা। সবমিলে এক ডোজ টিকার পেছনে সরকারের খরচ তিন হাজার টাকা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া বিজ্ঞাপনেই মিলেছে এই তথ্য।
তবে, টিকার এই খরচকে অসম্ভব বলছেন বিশেষজ্ঞরা। একই বিজ্ঞাপনে করোনা পরীক্ষা ও করোনা রোগীর পেছনে খরচের হিসেবেও গড়মিল দেখা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশে শুরু হয় অক্সফোর্ড এস্ট্রাজেনেকার টিকা প্রয়োগ। কিন্তু টিকা প্রস্তুতকারী ভারতের সেরাম ইনিস্টিটিউট চাহিদা অনুযায়ী টিকা না দেয়ায় ২৬শে এপ্রিল থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ হয় টিকা কার্যক্রম। এই সময়ের মধ্যে প্রয়োগ হয় কেনা ও উপহার মিলে কোটির বেশি টিকা।
এ পর্যন্ত প্রতি-ডোজ ৫ ডলার হিসেবে ৭০ লাখ কোভিশিল্ড আর প্রতি ডোজ ১০ ডলার করে ৩১ লাখ সিনাফার্মের টিকা কেনা হয়েছে। সে হিসেবে গড়ে প্রতি-ডোজ টিকা কিনতে খরচ হয়েছে ৪৯২ টাকা।
গত ৯ জুলাই গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে দেয়া বিজ্ঞাপনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে প্রতি-ডোজ টিকার পেছনে তাদের মোট খরচ ৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ কেনার খরচ বাদে প্রতি-ডোজ টিকা প্রয়োগের খরচ প্রায় আড়াই হাজার টাকা।
বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, করোনার প্রতিটি পরীক্ষার জন্য সরকারের খরচ হয়েছে ৩ হাজার টাকা। যা বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষার সমান।
গেলো মে মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গবেষণা বলেছে, একজন করোনা রোগীকে চিকিৎসা দিতে সরকারের গড়ে ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু এই বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রতি রোগীর পেছনে খরচ ২ লাখ টাকা করে।

খরচের অঙ্কে এই অসঙ্গতি বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘ভালো করে দেখতে হবে’।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও ভ্যাকসিন এলায়েন্সের যৌথ সমীক্ষা বলছে, করোনার প্রতি ডোজ টিকার মূল দামের সাথে আরও ৯০ শতাংশ প্রয়োগ ব্যয় ধরতে হবে। অর্থাৎ এক ডোজের দাম ১শ টাকা হলে প্রয়োগ ব্যয় হবে আরও ৯০ টাকা।
আরও পড়ুন: জামিনে বেরিয়ে বাদিকে হত্যাচেষ্টা
বিশ্বে গণটিকা কর্মসূচি চালাতে সবচেয়ে সক্ষম দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। যেখানে করোনা ছাড়াই দৈনিক ৫ লাখ সাধারণ টিকা দেয়ার লোকবল আছে বাংলাদেশের। সেই লোকবল দিয়ে চলছে করোনার টিকা কার্যক্রম। টিকা দেয়ার কাজে নিয়োজিত একেকজন নার্সকে দেয়া হয় দৈনিক ১৬০ টাকা ভাতা। যিনি দিনে অন্তত দুশো ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেন। সেই হিসেবে প্রতি-ডোজ ভ্যাকসিনের জন্য একজন নার্সের পেছনে ব্যয় ১ টাকারও কম।
এরসাথে পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যয় মিলিয়ে ৩ হাজার টাকা খরচ হওয়াকে অস্বাভাবিক বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজীর আহমেদের মতে, গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন দেয়ার বদলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা মোকাবিলায় আরও মনোযোগী হওয়া উচিত।
একাত্তর/আরএ
