গেলো ১২ বছর ধরে চলছে গাজিপুরের বিআরটি প্রকল্পের কাজ। প্রকল্পটির লক্ষ্য যাত্রী ভোগন্তি দূর করার। কিন্তু সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পটি নিজেই যাত্রী ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠেছে।
কথা ছিলো, এই প্রকল্পের জন্য বাস বরাদ্দ দেবে বিআরটিসি। স্বল্পসময়ে সেই বাসে চড়ে বিমানবন্দর থেকে গাজিপুর পর্যন্ত চলাচল করবে যাত্রীরা।
বিআরটিসি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম জানান, কারিগরি সমস্যার কারণে বিআরটি প্রকল্পে কোনো বাস দিচ্ছে না বিআরটিসি। তবে রাজধানীতে চলাচলের জন্য এ বছরই বিআরটিসির বহরে যুক্ত হচ্ছে ৩৪০টি পরিবেশ বান্ধব আধুনিক বাস। শুধু ঢাকা-গাজিপুরের বিআরটি প্রকল্পের জন্য কোন বাস কেনা হচ্ছে না। এরিমধ্যে বাস কেনার সব প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে। বাসগুলোর একাংশ চলবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে, বাকিগুলো রাজধানীর বিভিন্ন রুটে।

তিনি বলেন, যেহেতু কিছু অংশ চালু হয়েছে তাই প্রথমে চিন্তা করা হয়েছিল বিআরটিসির গাড়ি দিয়ে চালানো যায় কি না। কিন্তু বাস্তবে যখন পরিদর্শন করা হলো তখন দেখা গেলো, সেখানে যে প্লাটফর্ম অর্থাৎ গাড়ি ওঠানামার যে বিষয়টি রয়েছে সেটি বিআরটিসির গাড়ির সঙ্গে ম্যাচ করে না। তাই নতুন গাড়ি আনা হচ্ছে। গাড়িগুলো বিআরটি’র হলো অপারেট করবে বিআরটিসি।
আমরা যদি মার্চ মাসে টেন্ডার যেতে পারি, তাহলে জুন মাসে গাড়িগুলো আসা শুরু হবে। তবে জুনে যদি না আসে তবে জুলাইয়ে অবশ্যই আসবে। গাড়িগুলো আমরা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে চালাবো।

যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে এরিমধ্যে অনলাইনে টিকিট বিক্রির পরিকল্পনাসহ স্মার্ট বিআরটিসি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানালেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান।
গত ১৬ জানুয়ারি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, গাজীপুর থেকে উত্তরা হয়ে ঢাকা বিমানবন্দর পর্যন্ত বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প চলতি বছরের জুনে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার আশা করা যাচ্ছে।
এ বছরের জুনের মধ্যে বিআরটি প্রকল্প শেষ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন নিচের অংশের আর ভোগান্তি নেই।

বিআরটি সূত্র জানায়, ২০ কিলোমিটার বিআরটি প্রকল্পেনর মধ্যে রয়েছে- এয়ারপোর্ট উড়াল সেতু, জসীমউদ্দিন উড়াল সেতু, হাউজবিল্ডিং থেকে স্টেশন পর্যন্ত নির্মিত উড়াল সেতু, টঙ্গীতে উড়াল সেতু অংশে নির্মাণাধীন স্টেশন, সমতলে নির্মাণাধীন স্টেশন (তারাগাছ স্টেশন), বিআরটি করিডোরের নির্বাচিত সড়কের অংশ, গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা স্টেশন ও উড়াল সেতু, বিআরটি ডিপো (নলজানি, গাজীপুর)।
