নড়াইলের কালিয়ায় ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় নিলয় মোল্লা নামে এক শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এসময় নিলয়ের সাথে থাকা তামিম খান নামে এক যুবক আহত হন।
শুক্রবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে কালিয়া উপজেলার খাশিয়াল ইউনিয়নের তালবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নিলয় মোল্লা উপজেলার টোনা দাখিল মাদরাসার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ও টোনা গ্রামের সাবেক পুলিশ সদস্য সুলতান আহমেদ মোল্লার (পিকু মোল্লা) ছেলে। আর আহত তামিম একই গ্রামের একরাম খানের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের বরাতে জানা যায়, নিলয় মোল্লা ও তামিম খানসহ এলাকার কয়েকজন উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামে ওয়াজ মাহফিলে ওয়াজ শুনে এসে বাড়ি ফেরার পথে, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দুর্বৃত্ত দল তাদের এলোপাথাড়ি কুপিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিলয় মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আহত তামিম খান জানান, গত ১২ থেকে ১৫ দিন আগে টোনা গ্রামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনার্স পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে ব্রাহ্মণ পাটনা গ্রামের কামরুল খানের ছেলে শাকিল খান ইভটিজিং করেন। এ সময় নিলয় মোল্লা প্রতিবাদ জানিয়ে শাকিল খানকে দু'টি চড় দেন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা ঘটনাটি মীমাংসা করে দেন।
এই ঘটনা জের ধরে আজকে মাহফিল থেকে ফেরার পথে শাকিল খান তামিমকে ও নিলয়কে ডেকে নিয়ে রামদা, সামুরা, সেভেন গিয়ার অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এসময় তারা বাঁচার জন্য চিৎকার চেঁচামেচি করলে ওয়াজ মাহফিলে থাকা লোকজন এসে তাদেরকে উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক পার্থ প্রতিম বিশ্বাস জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা দু'জনের মধ্যেও নিলয় নামে এক ব্যক্তিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। আর তামিম নামে এক ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
নড়াগাতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান জানান, নিলয় মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে খুন করার ঘটনা জানতে পেরেছি। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য সকালে নড়াইল সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হবে।
কুসিক উপনির্বাচন: সাক্কুর উঠান বৈঠকে হামলার অভিযোগ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রাক চাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত