১৯৬৪ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করে ফরাসি অস্তিত্ববাদী দার্শনিক, নাট্যকার, সাহিত্যিক ও সমালোচক জঁ পল সার্ত্রে বলেছিলেন, কোনো লেখকেরই প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কার বা সম্মাননা গ্রহণ করা উচিত নয়। কারণ এ জাতীয় সম্মাননা লেখকের জন্য আপসকামিতার জন্ম দেয়। ওই ঘটনার ঠিক ৬০ বছর পর ২০২৪ সালে সার্ত্রের নিজ হাতে গড়ে তোলা ফরাসি পত্রিকা লিবারেসিউন আপসকামিতার চূড়ান্ত পরিচয় দিয়েছে। এবার সরাসরি গণহত্যার পক্ষে দাঁড়িয়েছে পত্রিকাটি।
সম্প্রতি গাজার ক্ষুধার্ত শিশুদের প্রতি পরিহাসমূলক কার্টুন বা ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করেছে লিবারেসিউন। এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে পত্রিকাটি।
সামাজিক মাধ্যমে পত্রিকাটিকে এরইমধ্যে জায়নবাদী আখ্যা দিয়েছেন নেট নাগরিকরা। বয়কটের ডাক দিয়ে অনেকেই পশ্চিমা বিশ্বের গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এ কথা সত্য যে, বাকস্বাধীনতা চর্চার ক্ষেত্রে বিশ্বে ফ্রান্সের জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু গণহত্যার মতো বিষয়ে সে বাকস্বাধীনতার সীমা-পরিসীমার কতদূর? সে প্রশ্নও রেখেছেন অনেকে।
গেলো ১১ মার্চের ওই কার্টুনে দেখানো হয়েছে, চলতি রমজান মাসে এক ফিলিস্তিনি নারীর পাশে বসে রয়েছে তার শিশু। ক্ষুধার কষ্টে তার জিভ বেরিয়ে এসেছে। অন্যদিকে এক ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনি পুরুষ কয়েকটি ইঁদুরের পেছনে ছুটছেন যাদের মুখে রয়েছে হাড়। ওই পুরুষের মুখ থেকে লালা ঝরছে। এই পুরুষ চেষ্টা করছেন ইঁদুরগুলোর মুখ থেকে হাড়গুলো সংগ্রহ করতে। কিন্তু ওই ফিলিস্তিনি নারী পুরুষটিকে বলছেন, যেহেতু রমজান মাস তাই সূর্যাস্তের আগে এই কাজ না করতে। অর্থাৎ মাগরিবের আযান বা সূর্যাস্তের সময় ইফতার শুরু হবে।
ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে বলছে, লিবারেসিউন-এর প্রধান সম্পাদক দাউ এলফোন অতীতে দখলদার ইসরাইলের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মী ছিলেন। আর পত্রিকাটির বর্তমান মালিক প্যাট্রিক ড্যারহি একজন ফরাসি-ইসরাইলি ধনকুবের।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ পশ্চিমা অনেক দেশই ইসরাইলি গণহত্যার পক্ষে দাঁড়িয়েছে। ইসরাইলকে সরাসরি অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে। একদিকে ইসলাম বিদ্বেষ ও বর্ণবাদ, অন্যদিকে গাজার জনগণের প্রতি চূড়ান্ত অবজ্ঞা, সব মিলে নৈতিক অধঃপতন হয়েছে এসব দেশের অধিকাংশ গণমাধ্যমের।
তারা আরও বলছেন, গাজাবাসীর ওপর দখলদার ইসরাইলের বর্বরতা ও গণহত্যা যখন সব ধর্মের অনুসারী বিশ্ব-জনমতকে গভীরভাবে ব্যথা-ভারাক্রান্ত করছে, ঠিক তখন ক্ষুধার্ত গাজাবাসীকে নিয়ে এ ধরনের পরিহাস ও কটাক্ষ ইসরাইলি চক্রের দোসরদের পাশবিক চেহারাকে আবারও স্পষ্ট করেছে।
যদিও এক্ষেত্রে লিবারেসিউন এক নয়, বা এবারই প্রথম নয়, এমন উপহাস আগেও পেয়েছে গাজার শিশুরা। এর আগে আরেক আলোচিত ফরাসি কার্টুন ম্যাগাজিন শার্লি এবদোও একইভাবে গাজার শিশুদের বিপক্ষে গিয়ে ইসরাইলি গণহত্যাকে সমর্থন দিয়েছে। প্রায় একই ধরনের কার্টুন প্রকাশ করেছিলো ম্যাগাজিনটি।
এভারেস্টে ওঠার সময় মলত্যাগ নিষেধ!