এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পরিকল্পনার খোলসেই আছে জ্বালানি খাতের সবচেয়ে আলোচিত অবকাঠামো ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট। জ্বালানী খাতের গুরুত্বপুর্ণ এই অবকাঠমো নির্মিত না হওয়ায় বেশি দামে পরিশোধিত তেল আমদানি করতে হচ্ছে পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনকে।
গভীর সমুদ্র থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে তেল আনার যে সক্ষমতা তাও পূরণ হচ্ছে না। দ্বিতীয় ইউনিট চালু না করে রাষ্ট্রের বড় ধরনের ক্ষতির সমালোচনা করলেন সংশ্লিষ্টরা।
ইস্টার্ন রিফাইনারি। ১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল শোধনক্ষমতার এর প্রথম ইউনিটটি নির্মাণ করা হয়েছিল ৭৫ বছর আগে ১৯৪৯ সালে। প্রতিবছর দেশে জ্বালানির চাহিদা বাড়লেও বাড়েনি জ্বালানি তেলের পরিশোধন সক্ষমতা। বর্তমান সরকারের সময় ৩০ লাখ টন সক্ষমতার আরেকটি ইউনিট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলেও এখনও পরিকল্পনা পর্যায়েই আছে। ২০২০ সালে বলা হয়েছিল ২০২৪ সালে শেষ হবে দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণ কাজ।
যদিও ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিক শেষেও নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে পরিকল্পনা পর্যায়েই প্রায় ১১শ কোটি টাকা খরচও হয়ে গেছে। এদিকে গভীর সমুদ্র থেকে দ্বৈত পাইপ লাইনে আমদানি করা তেল খালাসের প্রকল্প শেষ প্রায়। রিফাইনারির নতুন ইউনিট চালু না হলে পাইপ লাইনের সক্ষমতার ৩৩ শতাংশের বেশি ব্যবহার সম্ভব হবেনা। শোধন ক্ষমতা না বাড়িয়ে অপরিশোধিত তেল আনার অবকাঠামো নির্মাণের সমালোচনা করেন জ্বালানি অধ্যাপক ম. তামিম।
বৈদেশিক মূদ্রা সাশ্রয়ে পরিশোধনাগার নির্মাণের গুরুত্ব তুলে ধরেন পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানও। আর মন্ত্রী বলছেন, নির্মাণের দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ৮০ ভাগ মালিকানার শর্তে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু তা জ্বালানিখাতের জন্য কতটা ইতিবাচক হবে তা নিয়ে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা।
