ইরানি কনস্যুলেটে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তেহরানের ‘কৌশলী এবং বুদ্ধিমান’ জবাব আগ্রাসীকে শাস্তি দেয়ার সর্বোত্তম উপায় বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি'র সঙ্গে ফোনালাপে রুশ প্রেসিডেন্ট এ মন্তব্য করেন। খবর প্রেসটিভি'র।
পুতিন বলেন, সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে ইসরাইলি সরকারের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সব আন্তর্জাতিক মান ও নিয়মের পরিপন্থি।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কিছু পশ্চিমা দেশের কঠোর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে ইরান এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।
এসময় প্রেসিডেন্ট রাইসি বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছি যে, আমরা ইরানের স্বার্থের বিরুদ্ধে যে কোনো পদক্ষেপের জবাব দেবো এবং যা হবে আগের জবাবের চেয়েও শক্তিশালী এবং আরও বেদনাদায়ক।
দখলদার ইসরাইলের প্রতি তেহরানের প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে ছিলো উল্লেখ করে রাইসি আরও বলেন, ইসরাইলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং বিশ্ব শান্তির জন্য মারাত্মক হুমকি।
ইরানের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে পুতিন বলেন, যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিক্রিয়ায় ইরান যা করেছে তা ছিলো আগ্রাসীকে শাস্তি দেয়ার সর্বোত্তম উপায়।
ইরানের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে দেশটির রাজনীতিবিদদের কৌশলী এবং যৌক্তিক পদক্ষেপের দিকটি ফুটে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এসময় রাশিয়ার নীতিগত ও গঠনমূলক অবস্থানের জন্য মস্কোকে ধন্যবাদ জানান রাইসি।
এছাড়াও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কিছু পশ্চিমা দেশের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে রুশ সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
এর আগে গেলো ১ এপ্রিল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে হামলা চালিয়ে শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ জনকে হত্যা করে ইসরাইল। এ ঘটনার পর ইরান ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর ঘোষণা দেয় এবং কনসুলেট ভবনে হামলার ১০ দিন পর সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন করে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি।
শনিবার দিবাগত রাতে আইআরজিসি ইসরাইলের বিরুদ্ধে কয়েকশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের হামলা ঠেকাতে প্রায় দেড়শ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে ইসরাইল। এছাড়াও ইসরাইলের বেশ কিছু বিমান ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সবশেষ সোমবার মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কা ও সংযমের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও ইরানের হামলার জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরাইল।
ছত্তিশগড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে শীর্ষ নেতাসহ ২৯ মাওবাদী নিহত