টানা ভারী বর্ষণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম ব্যস্ত দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়ার পর ধীরে ধীরে আবারও সচল হতে শুরু করেছে। কিছু অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বৃহস্পতিবার আবার শুরু হয়েছে, তবে বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দরটির আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধই রয়েছে।
রেকর্ড বৃষ্টিপাতের তৃতীয় দিনেও বিপর্যস্ত আরব আমিরাতের বেশিরভাগ এলাকা পানির নিচে। আকস্মিক বন্যায় দুবাই শহরের স্থবিরতা এখনও কাটেনি। মঙ্গলবার থেকে শুরু হাওয়া ঝড়বৃষ্টিতে আরব আমিরাতের বহু শহরের রাস্তাঘাট তলিয়ে যায় এবং দুবাই বিমানবন্দর প্লাবিত হয়।
অস্বাভাবিক ঝড়বৃষ্টিতে হঠাৎ বন্যার কবলে পড়েছে আমিরাত। পানির নিচে তলিয়ে যায় দুবাই বিমানবন্দরের রানওয়ে। এতে বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বেশিরভাগ ফ্লাইট বাতিল, পরিবর্তন ও বিলম্ব করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু হলেও তা বিলম্ব হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এয়ারলাইন এমিরেটস জানিয়েছে, টার্মিনাল এক এবং তিনের চেকইন কাউন্টারগুলো আবারও চালু করা হয়েছে। তবে এটি শুধুমাত্র আভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য। বিশেষ করে যেসব বিদেশি যাত্রী আমিরাতের ভেতরে ভ্রমণ করতে আগ্রহী তাদেরকে সেবা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
দুবাই বিমানবন্দরের প্রধান পল গ্রিফিথস বলেছেন, এটি একটি অবিশ্বাস্যভাবে চ্যালেঞ্জিং সময় যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি আগে কখনও কেউ দেখেছে বলে আমি মনে করি না। তিনি জানান, বিমানবন্দরমুখী যানবাহনের চাপে আশপাশের সবগুলো সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছেন, যা দুবাই শহরে অচিন্তনীয়।
বুধবার প্রায় তিনশ’টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং আরও শতাধিক দেরিতে ছেড়েছে। আমিরাতে তাদের ইতিহাসে রেকর্ড বৃষ্টিপাত দেখছে। মঙ্গলবার দেশটিতে ২৫৯ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। দেশটির সংবাদ ও গণমাধ্যম এই বৃষ্টিতে আবহাওয়ার ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করছে।

বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বিমানবন্দরের মোট এক হাজার ২৪৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এছাড়া ঘুরিয়ে দেয়া হয়েছে আরও ৪১টি ফ্লাইট। বিশ্বের ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে কঠোর পরিশ্রম করছে। যাত্রীদের খুব প্রয়োজন না হলে টার্মিনাল একে না যেতে বলা হচ্ছে।
বিমানবন্দর ছাড়াও, ভারী বৃষ্টি ও তীব্র জলজটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক শহর দুবাই। শহরটির বহু বাড়ি ও শপিংমল হাঁটু পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে গেছে। অচল হয়ে পড়ে বিমানবন্দর। দুবাইয়ের মতো শহরে এ ধরনের চিত্র অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে।

হাজার হাজার যাত্রী দুবাই এয়ারপোর্টের ভেতরে আটকা পড়ে আছে। অনেকে শ্লোগান দিচ্ছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ রাত-দিন কাজ করেও কূলকিনারা করতে পারছে না। ট্রানজিট যাত্রী হিসেবে যারা বুধবার দুবাইতে অবতরণ করেছেন তাদের অভিজ্ঞতা ছিল দুর্বিষহ। পুরো ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে।
বাংলাদেশের যাত্রী রেজাউল করিম জানান, বিমানগুলো ঘটনার পর ঘণ্টা আকাশে চক্কর দিলেও অবতরণের অনুমতি পাচ্ছিল না। তিনি বলেন, দুবাইতে সিনেমার মতো যাত্রা…। এক ঘণ্টা পঞ্চাশ মিনিট প্লেনের ভেতরে বসে আছি। কারণ, কোনো গ্রাউন্ড সার্ভিস নেই। প্লেন নামতে পারছে না।

দুবাই বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন ব্রিটিশ পর্যটক অ্যান উইং, তার স্বামী ও তিন সন্তান। দেশে ফিরতে তারা লন্ডনের হিথ্রোতে যাবার জন্য অপেক্ষা করছেন। অ্যান বলেন, এটা খুব ভয়াবহ পরিস্থিতি। আমাদের পশুর মতো করে রাখা হয়েছে। এটা খুবই অমানবিক। তার পরিবারের সদস্যদের কাছে কোনো খাবার নেই।
গত ৭৫ বছরের মধ্যে দুবাইতে গেল মঙ্গলবার একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে পুরো দুবাইতে দেখা দেয় তীব্র জলাবদ্ধতা। এর পেছনে বড় কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে, পানি সরে যাবার জন্য ড্রেনেজ সিস্টেম না থাকা। দুবাই কখন চিন্তাই করেনি এমন বৃষ্টির কথা। ফলে শহরটিতে তেমন ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই।

শহরের কেন্দ্রস্থলে ড্রেনেজ সিস্টেম আছে, কিন্তু এর বাইরে ড্রেনেজ সিস্টেমের অবস্থা মোটেও ভালো নয়। ফলে অল্প বৃষ্টিতেও অনেক সময় বিভিন্ন জায়গায় তীব্র জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। সেখানে বৃষ্টির কালচার ছিল না। ড্রেনেজ সিস্টেমের কথা চিন্তাই করেনি। শহর গড়ে উঠেছে ড্রেনেজ সিস্টেম ছাড়া
দুবাইয়ে ভালো ড্রেনেজ সিস্টেম গড়ে তোলার জন্য জন্য ২০২৩ সালে দেশটির সরকার প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। আগামী ১০০ বছরের কথা চিন্তা করে এই প্রকল্প নেয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ পাচ্ছে কি ফিলিস্তিন?