চলমান তাপদাহের কারণে সড়কের পিচ গলে যাবার পাশাপাশি দূরপাল্লার গাড়িতে নিম্নমানের চাকা ব্যবহারের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। পিচগলা সড়কে নিম্নমানের চাকা গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না।
এছাড়া তাপদাহের কারণে অনেক সময় মেজাজ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ছেন গাড়ি চালকরা। এ অবস্থায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
বেশ কয়েক দিন ধরে দেশের সড়ক দুর্ঘটনা হার ঊর্ধ্বমুখী। পরিসংখ্যান বলছে, এবারের ঈদ যাত্রায় সড়কে প্রাণ গেছে ৩২০ জনের। এরপর তাপদাহ শুরুর পর ৯ দিনের ব্যবধানে তিনটি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৩৮ জনের।
সড়ক পরিবহন বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছরের এই সময়টা দুর্ঘটনা হার একেবারে অস্বাভাবিক। কারণ হিসেবে তারা গাড়ির ফিটনেস না থাকার পাশাপাশি তাপপ্রবাহকেও দায় দিচ্ছেন।
পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জমান জানান, দেশের অধিকাংশ গণপরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের জ্বালানী যা গাড়ির ইঞ্জিনের তাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। নেই তাপ থেকে চালককে রক্ষার কোনো ব্যবস্থা। এমন পরিবেশে তারা গাড়ি চালাচ্ছে দিনে গড়ে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা। এর ফলে প্রায়শই চালক মেজাজ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ের বয়ে যাওয়া দীর্ঘ তাপদাহের কারণে সড়কে পিচ গলে যাচ্ছে প্রতি নিয়ত। সে কারণে রাস্তা হয়ে পড়ছে পিচ্ছিল। খরচ কমাতে মালিকরা গাড়িতে ব্যবহার করছেন নিম্নমানের চাকা, যা গাড়িকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না।
তবে, বিআরটিএর চেয়ারম্যান নূর মোহম্মদ মজুমদার বলছেন, কোনো গাড়ির ফিটনেসের কাগজপত্র দেয়ার সময় ৭০টি বিষয় দেখা হয়। লাইসেন্স পাওয়ার পর মালিকরা সেসব বিষয় মানছে কিনা সেগুলোও খতিয়ে দেখা হবে।
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আইনের পাশাপাশি সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও জানান বিআরটিএ চেয়ারম্যান।
গরমে ঢাকায় বছরে ছয় বিলিয়ন ডলার ক্ষতির আশঙ্কা