ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এবং বন্দী বিনিময় চুক্তির আলোচনা জোরদার করার পাশাপাশি রিয়াদ-তেল আবিব সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টায় সৌদি আরব সফর করছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। রাফাহতে ইসরাইলের সম্ভাব্য অভিযান ঠেকানোর উপায় খোঁজার চেষ্টাও হবে তার এই সফরে।
সোমবার সৌদি আরবে পৌঁছান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। সেখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে যাবেন তিনি। রিয়াদে সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে কথা রয়েছে ব্লিঙ্কেনের। এছাড়ও কাতার, মিশর, আরব আমিরাত এবং জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি।
টাইমস অফ ইসরাইলের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক এই সপ্তাহের শেষের দিকে ইসরাইল যাবেন। সেখানে তিনি গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির উন্নতির জন্য আরো পদক্ষেপ নিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে চাপ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আরো বলা হয়েছে, গাজার পুনর্গঠন নিয়ে ব্লিঙ্কেন ইউরোপীয় দেশ ও আরব দেশগুলোকে নিয়ে একসাথে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। অবশ্য গাজার পুনর্নির্মাণ ও শাসন বিষয়ে কয়েক মাস ধরেই আলোচনা চলছে। কিন্তু এর কোনো রূপরেখা এখনো স্পষ্ট হয়নি।
রিয়াদে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের একটি বিশেষ অধিবেশনে আলোচনার সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে, ইসরাইল ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য একটি চুক্তি প্রায় শেষের দিকে। এনিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরব গত মাসে একত্রে নিবিড়ভাবে কাজ করেছে।
ধারণা করা হচ্ছে চলমান সফরে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য অনুরোধ করবে ওয়াশিংটন। এই চুক্তি রিয়াদকে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি দেয়ার সঙ্গে রিয়াদের কাছে উন্নত অস্ত্র বিক্রি এবং বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি প্রদান বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অন্যদিকে, ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পূর্ব শর্ত হিসাবে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে তেল আবিবকে রাজি করাতে চাপ দিতে পারেন সৌদি নেতা। যদিও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং হামাস প্রতিরোধে তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।

সোমবার রিয়াদে ব্লিঙ্কেন বলেন, তিনি এখনও রাফাহ আক্রমণে ইসরাইলের এমন পরিকল্পনা দেখেননি যা বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করবে। আমরা এখনও এমন কোন পরিকল্পনা দেখিনি যা আমাদের আত্মবিশ্বাস দেয় যে, বেসামরিক নাগরিকদের কার্যকরভাবে সুরক্ষিত করা যেতে পারে।
তবে হামাসকে নির্মূল করতে ইসরাইলি উদ্দেশ্যের সঙ্গে একমত যুক্তরাষ্ট্র, যাতে ভবিষ্যতে গাজায় আর কোন ভূমিকা রাখতে না পারে দলটি। তবে ইসরাইল গাজা উপত্যকা দখল করুক এমনটাও চায় না যুক্তরাষ্ট্র। এর পরিবর্তে বহুপাক্ষিক সমর্থনে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ গাজা শাসন করবে, এমনটাই প্রত্যাশা যুক্তরাষ্ট্রের।
