দু’মাস যেতে না যেতেই ভেস্তে যেতে বসেছে দুর্বল আর সবল ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়া। ঋণ খেলাপিতে ডুবন্ত ন্যাশনাল ব্যাংক অন্য কোনো ব্যাংকের সাথে একীভূত হতে চাইছে না। তাছাড়া সরকার মালিকানাধীন ব্যাংকের কর্মকর্তারাও চাইছেন না বেসরকারি ব্যাংকের সাথে মিলতে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় বড় ঋণ খেলাপিদের দায়মুক্তি দিতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ।
ঋণ লোপাটে বিপর্যস্ত ফারমার্স, যা এখন পদ্মা ব্যাংক -একীভূত হচ্ছে এক্সিম ব্যাংকের সাথে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মার্জার নীতিমালা ঘোষণার আগেই গেলো ১৮ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে চুক্তি করে পদ্মা ব্যাংককে নিজেদের সাথে একীভূত করার কথা জানিয়েছিলেন এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার।
তবে এখন দু’মাস যেতে না যেতেই বেসরকারি ইউসিবিএল ব্যাংকের সাথে একীভূত হবার প্রশ্নে বেঁকে বসেছে বেসরকারিখাতের আরেক ডুবন্ত ন্যাশনাল ব্যাংক।
গুঞ্জন আছে, চট্টগ্রামভিত্তিক একটি ব্যবসায়ী গ্রুপ ন্যাশনাল ব্যাংক কিনে নেয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মার্জার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে ব্যাংকটির নতুন পর্ষদ।
ন্যাশনাল ব্যাংকের সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ী। যতো টাকা গেছে, তার চেয়ে বেশি টাকা আনবো বিদেশ থেকে, সুদে।’
তবে কী মুখ থুবড়ে পড়ছে ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ?
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী মনে করেন, ব্যাংকগুলো একীভূতকরণ হলে কিছু লোকের লাভ হবে। তারা দায়মুক্তি পেয়ে যাবে।
তিনি বলেন, মোটিভেশনেই গন্ডগোল আছে। একীভূতকরণে আসলে কিছু লোকের দায়মুক্তি হবে। এর বাইরে ব্যাংকিং সেক্টরের উন্নতি হবে বলে আমি মনে করি না।
ন্যাশনাল ব্যাংকের নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেয়ার আগে বিশাল অংকের ঋণের সুদ মাফ করা হয়েছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে কৌশলী জবাব দেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের।
ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন এ বিষয়ে বলেন, সুদ মওকুফ বড় বিষয় না। যদি সেখান থেকে আমি আরও অনেক বেশি লাভ করতে পারি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, দেখা যায় -যত বেশি শক্তিমান, তত বেশি সুদ খেলাপি। ঋণ খেলাপ, কর খেলাপ এবং মানি লন্ডারিং একই সূত্রে গাঁথা। এদেরকে আমার মনে হয়, সুবিধা দেয়ার দরকার নাই। তারা যখন বুঝবে শাসককুলের চক্ষু লাল হয়ে গেছে তখন কিন্তু তারা টাকাটা দেয়া শুরু করবে।
এদিকে বিদেশ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ আনার পাশাপাশি আর কোন লুটপাট হবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে ন্যাশনাল ব্যাংকের নতুন পর্ষদ।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে সংস্কার করতে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সবল ব্যাংকের সাথে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরইমধ্যে একীভূত হওয়ার লক্ষ্যে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা করেছে বেসরকারি খাতের পদ্মা ব্যাংক। একীভূত হওয়ার পর এটি এক্সিম ব্যাংক নামেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যথাযথ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ না করে যাচাই-বাছাই ছাড়া এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া বরং আর্থিক খাতে আরও নতুন সংকটের সৃষ্টি করবে। হুমকির মুখে পড়তে পারে ভালো ব্যাংকগুলোও।
তবে, বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, একীভূতকরণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যেসব ব্যাংক এই প্রক্রিয়ায় আসবে না, সেসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিয়ে জানালে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাংলাদেশে বর্তমানে ৬১টি ব্যাংক আছে। আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এর মধ্যে ৪০টির মতো ব্যাংক ভালো করলেও বাকি ব্যাংকগুলোর অবস্থা সুবিধাজনক নয়।
ব্যাংকিং খাতে কোনো দুর্বল প্রতিষ্ঠান থাকলে পুরো খাতই ঝুঁকির মাঝে থাকে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ে। খারাপ ব্যাংকগুলোকে ভালোগুলোর সাথে একীভূত করা গেলে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
১০ মাসে রেমিট্যান্স এলো ১৯ বিলিয়ন ডলার
কারও সঙ্গে একীভূত হবে না এনবিএল