রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে শুরু থেকেই তামিল ছবির খলনায়কদের মতো আচরণ করছে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন পশ্চিমারা। সিনেমার গল্পে একের পর শয়তানির করতে গিয়ে, বারবার নায়কের হাতে ধোলাই খাওয়ার পরও ভিলেন যেমন থামতে চায় না, তেমনি অবস্থা ইউক্রেনকে উদার হাতে সহায়তা নিয়ে আসা পশ্চিমা।
প্রতিপক্ষ যখন রাশিয়া আর পুতিন, তখন শুরু থেকে বাইডেনের আমেরিকা আর ব্রিটেন। আর সে সঙ্গে তাল দিচ্ছে ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সারাক্ষণই ব্যস্ত কি করে রাশিয়াকে একহাত নেয়া যায়। এজন্য তলে তলে কম বুদ্ধি আটেননি। কিন্তু কোনটিই শেষ পর্যন্ত ধোপে টিকেনি।
তাই বলে থেমেও থাকেননি ম্যাক্রোঁ। মাস খানেক আগেই রাশিয়াতে ন্যাটো সেনা পাঠানোর প্রস্তাব করে স্বয়ং পশ্চিমাদেরই বিরাগভাজন হয়েছিলেন তিনি। সেই সময়ে ম্যাঁক্রোর এমন বক্তব্য থেকে অনেক পশ্চিমা দেশই নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছে। পরে ন্যাটোই বলেছে, এমন কোনো সম্ভাবনাই নেই।
এরপরও বসে থাকেননি ম্যাঁক্রো। নিজের দুরভিসন্ধি থেকে সরে আসেননি তিনি। রাশিয়ার সেনাদের বিরুদ্ধে লড়তে চান তিনি। কিন্তু, ফ্রান্সের মাটিতে নয়, ইউক্রেনের মাটিতে করতে চান। এজন্য ইউক্রেনের রুশদের বিরুদ্ধে লড়তে সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ন্যাটোর অন্যতম সদস্য ফ্রান্স।

রাশিয়াকে ফরাসি সেনা পাঠানোর বিষয়ে ন্যাটো আনুষ্ঠানিক কোন সমর্থন জানানো তো দূরের কথা, এ থেকে একশ হাত দূরে থাকার কথাই বলে আসছে শুরু থেকে। তবে এই খবর বেজায় চটেছে রাশিয়া। সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছে, ফ্রান্স ইউক্রেনে সেনা পাঠালে তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু বানানো হতে পারে।
আট মার্চে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ম্যাক্রোঁ নিজেই রাশিয়ার জন্য এক ধরনের কৌশলগত অনিশ্চয়তা তৈরি করার ইচ্ছা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। ফ্রান্স যদি সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আসে তাহলে তারা রাশিয়ার টার্গেটে পরিণত হবে।
মারিয়া জাখারোভা আরও বলেন, ইউক্রেনে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে অনেক ফরাসি নাগরিক রয়েছে, যা রাশিয়ার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে এরইমধ্যে প্যারিসও তার প্রমাণ পেয়েছে। ফরাসি সেনাদের দেখামাত্র সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিতে দেরি করবে না মস্কো।
সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর ব্যাপারে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো শুধুমাত্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটো মিত্রদের থেকেই প্রত্যাখ্যাত হয়নি, বরং ফরাসির নাগরিকদের সংখ্যা গরিষ্ঠরাও এটি প্রত্যাখ্যান করেছে। সবাই বিষয়টিকে বিপজ্জনক ঝুঁকি হিসাবে বিবেচনা করে।

আর ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আমরা বারবার বলেছি, ইউক্রেন যুদ্ধে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সেনাবাহিনীর সরাসরি হস্তক্ষেপ বিশাল বিপদ বয়ে নিয়ে আসবে। তাই এটিকে চ্যালেঞ্জিং উস্কানি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এটি খুব সতর্কতার সঙ্গে দেখছি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেনে ফ্রান্সের সেনা পাঠানো পেছনে কারণ হলো আফ্রিকা। সম্প্রতি সাহেল অঞ্চল থেকে সম্প্রতি ফরাসি সেনাদের চলে আসতে হয়েছে। সেই শূন্যস্থান পূরণ করেছে রাশিয়ান সেনারা। এতে বড় ক্ষতি হয়েছে ফ্রান্সের। সেই ঝাল মেটাতে ইউক্রেনে সেনা পাঠিয়ে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে চায় ফ্রান্স।
ভারতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত আট, দগ্ধ ১২