বেনজীর আহমেদের দেশত্যাগে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। বলেছেন, কারো ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা না থাকলে তিনি যে কোনো জায়গায় যেতে পারেন।
সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। হাছান মাহমুদ বলেন, বেনজীর আহমেদ দুর্নীতি দমন কমিশনে উপস্থিত হন কিনা, সেটিই দেখার বিষয়।
মন্ত্রী বলেন, বেনজীর আহমেদকে ৬ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তলব করা হয়েছে। কিন্তু তিনি তার এক মাস আগেই দেশ থেকে চলে যান।
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইপিজি) ও র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের বিপুল সম্পদ নিয়ে সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। এরপর তদন্তে নামে দুদক। আদালতের মাধ্যমে কয়েকশো বিঘা জমিসহ বহু স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ এবং প্রায় তিন ডজন ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
বেনজীর, তার স্ত্রী ও তিন মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে অনুসন্ধান কর্মকর্তা। কিন্তু এর আগেই বেনজীর আহমেদ স্বপরিবারে বিদেশে চলে গেছেন বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে।
সাবেক পুলিশ প্রধানকে খোঁজার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে কিনা বা তিনি কোথায় আছেন সে বিষয়ে তথ্য আছে কিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক।
জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, তার দেশত্যাগে তো কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। কোর্টও দেয়নি, দুদকও দেয়নি। কারো ওপর যখন দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা না থাকে তিনি তো যে কোনো জায়গায় যেতেই পারেন।
‘ছয় জুন তিনি হাজির হচ্ছেন কি হচ্ছেন না সেটি দেখার বিষয়, নাকি তিনি সময় নিচ্ছেন। যেহেতু তার দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা কোনো জায়গা থেকে দেওয়া হয়নি, তো তিনি যে কোনো জায়গায় যেতেই পারেন,’ যোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির অভিযোগ নিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, সরকারের কোনো হাত না থাকায় দুদক অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে স্বাধীনভাবে কাজ করছে। ফলে উঠে এসেছে বিষয়গুলো। আদালত অত্যন্ত স্বাধীনভাবে কাজ করছে বিধায় এই বিষয়গুলো উঠে এসেছে। এটা তো অন্য কেউ তুলে আনেনি। সরকার এ ব্যাপারে অত্যন্ত স্বচ্ছ।
এদিকে শ্রমিকদের মালয়েশিয়া যাওয়ার তারিখ বাড়বে কিনা- এ প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আর শ্রমিকদের যেতে না পারার পেছনে কেউ জড়িত আছে কিনা, সে বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে।
বেনজীরকে ফিরতেই হবে: কাদের