ধামরাইয়ে জিসান হাসান রাব্বি (৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আল আমিন (২২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
র্যাব জানিয়েছে, মাদকের টাকা সংগ্রহের জন্য শিশুটির গলায় থাকা রুপার চেন চুরির জন্য ডেকে নিয়ে বলৎকারের পর তাকে হত্যা করে ওই তরুণ।
মঙ্গলবার দুপুরে সাভারের র্যাব-৪ ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট রাকিব মাহমুদ খান।
গ্রেপ্তার আল আমিন মানিকগঞ্জ সদর থানার জয়রা গ্রামের মৃত ইসমাইলের ছেলে।
নিহত শিশু জিসান হাসান রাব্বি বাবা সঙ্গে ধামরাইয়ের কালামপুর বাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতো। সে কালামপুর বাজারের আসহাবুস সুফ্ফা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল।
র্যাব জানায়, গত ৯ জুন বিকেলের দিকে ওই শিশুর গলায় একটি রুপার চেন দেখতে পায় অভিযুক্ত আল আমিন। এ সময় সেটি চুরি করার জন্য কৌশলে শিশুটিকে চকলেট খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে বলাৎকার করে তার গলায় থাকা রুপার চেনটি খুলে নেয় সে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে, শিশুটির পরিহিত প্যান্টের রশি গলায় পেঁচিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। এছাড়া শিশুটির মাথা কাদামাটিতে চেপে ধরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।
র্যাব আরও জানায়, সোমবার বিকেলে মরদেহ উদ্ধারের পরই ছায়া তদন্তে নামে সংস্থাটি। পরে কালামপুর এলাকা থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে আল আমিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। তার দেয়া তথ্যে চুরি করা চেনটি ধামরাইয়ের একটি জুয়েলার্সের দোকান থেকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-৪ সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট রাকিব মাহমুদ খান বলেন, অভিযুক্ত আল আমিনের পেশা চুরি করা। এছাড়া তিনি ছিনতাই ও ডাকাতির সঙ্গেও জড়িত। নিয়মিত হেরোইন, ইয়াবা ও গাঁজা সেবনসহ মাদক গ্রহণ করে থাকে। মাদক কেনার টাকা জোগাড় করতে ধামরাই, আশুলিয়া, সাভারসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই করে থাকে। গত ৫-৬ মাস আগেও চুরির ঘটনায় কালামপুর এলাকায় ধরা পড়ে আল আমিন।
গ্রেপ্তার আল আমিনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।
