ঈদের ছুটিতে বেনাপোল স্থল বন্দরে রেকর্ড সংখ্যক যাত্রীর চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা সামাল দিতে হিমশিম অবস্থা পুলিশ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের। তবে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন যাত্রীরা।
আর পদ্মা সেতু চালু হওয়া ঢাকা এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের যাত্রীরা বাসে করে অনেক আগেই বেনাপোলে পৌঁছে গেলেও সকালে বন্দর খোলা পর্যন্ত কয়েকঘণ্টা তাদের লম্ব লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হবে।
ঈদে বেড়ানো, চিকিৎসা ও ব্যবসার কাজেও অনেকেই ভারতে যাচ্ছেন। আবার স্বজনদের সঙ্গে ঈদ কাটাতে বেনাপোল বন্দর দিয়ে দুই দেশে যাতায়াত করছেন বহু মানুষ।
ইমিগ্রেশন সূত্রের তথ্য, গত এক সপ্তাহে প্রায় ৬০ হাজার যাত্রী বেনাপোল দিয়ে দুদেশের মধ্যে যাতায়াত করেছেন। এর মধ্যে ভারতে গেছেন ৪২ হাজার ১৩৭ জন। আর ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছেন ১৭ হাজার ৮৬৩ জন।
তবে উভয় দেশের ইমিগ্রেশন সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যাত্রীরা। আগের মতোই এবারও চেকপোস্টে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে হতাশা আর অসন্তোষ জানিয়েছেন তারা।
এছাড়া দালালদের হয়রানিতো রয়েছেই। বেনাপোল ও পেট্রোপোলে দুই পাশের ইমিগ্রেশনের কাজ সম্পন্ন করতে প্রতি যাত্রীর সময় লাগছে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা।
যদিও বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, সেবার মান বাড়াতে কাজ করছেন তারা। হয়রানি এড়াতে যাত্রীদের সতর্ক করে কিছুক্ষণ পর পর বন্দর কর্তৃপক্ষ মাইকে ঘোষণা দিচ্ছেন।

দেশের প্রধান স্থল বন্দর বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রায় ২০ লাখ মানুষ যাতায়াত করেন। এতে ভ্রমণকর বাবদ বাংলাদেশ সরকার রাজস্ব পাচ্ছে ১০০ কোটি টাকার বেশি। আর ভিসা ফি বাবদ ভারত সরকারের আয় হচ্ছে প্রায় ১৫০ কোটি।
তবে বিপুল পরিমাণে রাজস্ব আদায় হলেও সেবার মান বাড়ছে না বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
এদিকে পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় আগে ঢাকা থেকে আসা যাত্রীরা বেনাপোলে পৌঁছতেন সকালে। আর এখন ভোর তিনটার মধ্যে পৌঁছে যাচ্ছে দূরপাল্লার সব যাত্রীবাহী বাস।
তবে যাত্রীরা দ্রুত পৌঁছালেও বন্দর খোলে সকাল সাড়ে ছয়টায়। ততক্ষণে দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। সেই লাইন পার হতে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। এ সময় সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের, ভিজতে হচ্ছে বৃষ্টিতে। এতে শিশু ও রোগীদের মারাত্মক ভোগান্তিতে পোহাতে হচ্ছে।
শহিদুল নামে এক যাত্রী বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভারতে যাচ্ছি। কিন্তু এখানে ছয় ঘণ্টা তীব্র গরম, রোদ আর বৃষ্টিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু লাইন শেষই হচ্ছে, কাজ এগুচ্ছে ধীর গতিতে।
এ বিষয়ে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, এবার রেকর্ড সংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করেছেন। যাদের অধিকাংশই ঈদ উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটির কারণে ভ্রমণ ও চিকিৎসার জন্য ভারতে যাচ্ছেন।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, যাত্রী সেবার মান বাড়াতে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষকেও সেবা বাড়াতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ভারতে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত ৪০ হাজার মানুষ, মৃত্যু শতাধিক