গত চার মাসে দুইজন সংসদ সদস্যকে হারানো এবং জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার গ্রেপ্তারের পর ঝিনাইদহে ‘কঠিন বাস্তবতায়’ পালিত হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
গত ১৬ মার্চ ব্যাংককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসন থেকে টানা পাঁচবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই।
এর দুই মাস পর ১৩ মে কলকাতায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ঝিনাইদহ-৩ আসনের টানা তিনবারের সংসদ সদস্য এবং কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ারুল আজিম আনার।

চাঞ্চল্যকর ওই হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু এবং ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবু।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ঝিনাইদহে উদযাপিত হচ্ছে আওয়ামী লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তী। নানা কর্মসূচি ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নিয়েছেন জেলার নেতারা।
এ উপলক্ষে রোববার সকালে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন দলের নেতারা। এতে অংশ নেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম অপু, ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের সংসদ সদস্য নায়েব আলী জোয়ারদার, ঝিনাইদহ-২ (সদর ও হরিণাকুণ্ড) আসনের সংসদ সদস্য নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল।

এছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আহমেদ সঞ্জু, সাংগঠনিক সম্পাদক আছাদুজ্জামান আছাদসহ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা শহরের প্রেরণা একাত্তর চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এছাড়াও দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে জন্ম নেয় ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’। ছয় বছরের মাথায় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় দলের নাম থেকে বাদ দেয়া হয় ‘মুসলিম’ শব্দটি।
তারপর ছেষট্টির ছয় দফা, ১৯৬৯- এর গণঅভ্যুত্থান পেরিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এগিয়ে যায় দেশের স্বাধীনতার দিকে। এরপর নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আর ত্যাগ তিতিক্ষার মাধ্যমে আসে স্বাধীনতা। একাত্তরে বিশ্ব মানচিত্রে জন্ম হয় বাংলাদেশ নামে স্বাধীন রাষ্ট্রের।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাঙালির অধিকার-সংগ্রামে সবসময়ই পাশে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। নানা চড়াই–উতরাই পেরিয়ে ২০০৯ থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার পরিচালনা করছে দেশের ঐতিহ্যবাহী এবং সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলটি।
আওয়ামী লীগের সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ