ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত ভারতের রাজধানী দিল্লি। কয়েক মাস ধরে চলা গরম আর তাপপ্রবাহের পর বৃহস্পতিবার রাত থেকেই রাজধানী এবং আশপাশের এলাকাগুলোতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হচ্ছে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দিল্লিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে আজ সকাল ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ২৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা ১৯৩৬ সালের পর একদিনে (২৪ ঘণ্টায়) সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ১৯৩৬ সালের জুন মাসে দিল্লিতে একদিনে ২৩৫ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, প্রাক্-বর্ষার বৃষ্টিতে ভেসেছে দিল্লি এবং সংলগ্ন এলাকা। কিন্তু শুক্রবার সকালে আবহাওয়া অফিস জানায়, দিল্লিসহ উত্তর-পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে বর্ষা এসে গেছে।
মথুরা রোড, তিন মূর্তি মার্গ, মুলচাঁদ, মিন্টো রোড, আনন্দ বিহার, মেহরৌলি, বদরপুর রোড, মান্ডাওয়ালি, ভিখাজি কামা প্লেস, মধু বিহার, প্রগতি ময়দান, মুনিরকা, ধৌলা কুঁয়া, মোতি বাগ, আইটিও এবং নয়ডার বহু রাস্তা প্লাবিত হয়েছে।

কাইজজারগঞ্জে কোদিয়া সেতুর আন্ডারপাসে ৮ ফুট পানিতে আটকে যায় একটি যাত্রীবোঝাই বাস। পরে পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল আসে যাত্রীদের উদ্ধার করে।
এদিকে দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কের বহু বাড়িতে পানি ঢুকেছে। রাস্তা প্লাবিত হওয়ায় যান চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। বহু এলাকায় রাস্তা বন্ধ থাকায় গাড়ি ঘুরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, যেমন দিল্লি-মীরাট হাইওয়ে, নারাইনা-মোতি বাগ রোড, ধৌলা কুঁয়া উড়ালপুল, বীর বান্দা বৈরাগী মার্গ, আজাদ মার্কেট আন্ডারপাস, তিলক সেতু, অরবিন্দ মার্গ, অনুব্রত মার্গ, আইটিও এবং এমস প্লাবিত হয়েছে। প্রভাব পড়েছে দিল্লির মেট্রো পরিষেবাতেও।
আনন্দবাজার বলছে, মিন্টো রোডসহ বেশ কয়েকটি রাস্তায় শুক্রবারও কোমর সমান পানি ছিলো। সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর একটি ভিডিওতে মিন্টো রোডের রাস্তা দিয়ে গাড়ি ভেসে যেতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে অতিভারী বৃষ্টির ফলে দিল্লির অনেক অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার সকালে বৃষ্টির জেরে দিল্লি বিমানবন্দরের এক নম্বর টার্মিনালের ছাদের একাংশ ভেঙে পড়েছে। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। নিরাপত্তার কারণে ওই টার্মিনালের সমস্ত কাজ এবং পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে দিল্লির মেয়র শেলি ওবে দাবি করেছিলেন, বর্ষা মৌসুমের জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছেন। কিন্তু মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিপাতেই বদলে গেছে দিল্লির দৃশ্য।
বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দিল্লি, ধসে পড়লো বিমানবন্দরের ছাদ
ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে মার্কিন প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনায় ভারত