ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী হামাসের বিরুদ্ধে ৯ মাস ধরে চলমান যুদ্ধে হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করা ছাড়া আর কিছুই অর্জন করতে না পারা ইসরাইলের নজর এখন লেবাননের দিকে। তেলআবিবের খুনে নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুঙ্কার দিয়েছেন, হিজবুল্লাহ নির্মূলে মানচিত্র থেকে মুছে যাবে লেবানন।
এমন হুঙ্কারের পর দুই সপ্তাহ কেটে গেলেও লেবাননের দিকে এক পা দেয়া দূরের কথা, উল্টো বেকায়দায় পড়ে গেছেন নেতানিয়াহু। কারণ হিজবুল্লাহ আর হামাস যে এক নয়, সেই বিষয়টি এখন হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছেন না। পশ্চিমা দোসর থেকে শুরু করে নিজে ঘর থেকেই উঠছে সাবধান বাণী।
সবশেষে ইসরাইলে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কর্তাদের কাছে কড়া সতর্ক বার্তা পাঠিয়ে বলেছে, লেবানন আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আক্রান্ত হবে উত্তর ইসরাইলের ইহুদিরা। হিজুবুল্লাহ যোদ্ধাদের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হবে ইসরাইলের অধিকৃত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ থেকে করে ঘর-বাড়ি আর সব অবকাঠামো।
ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম হেয়োম এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনের উত্তরে ইহুদি কর্তাদের কাছে এক বার্তায় লেবাননে সম্ভাব্য সর্বাত্মক আক্রমণের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। ইসরাইলি গোয়েন্দাদের কাছ থেকে যাওয়া এই সতর্ক বার্তায় আরও বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ মোটেও সহজ হবে না।

ইসরাইলি সরকারের আরও একটি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহর সঙ্গে পূর্ণমাত্রায় লড়াই শুরু হলে, ৭২ ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে ব্যাপকভাবে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে উত্তর ইসরাইল। সেই সঙ্গে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে ইন্টারনেট ও টেলিফোনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলো।
২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টার জন্য মোবাইল ফোন সেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে অত্যাধুনিক ডিভাইস ব্যবহার করে সতর্কবার্তা আদান-প্রদান বন্ধ করে দেয়া হবে। প্রয়োজনে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হবে। অধিকৃত ফিলিস্তিনের বিশাল এলাকাজুড়ে এক সপ্তাহের জন্য পানি সরবরাহও বন্ধ রাখা হবে।
নির্দেশনায় উত্তর ইসরাইলের বাসিন্দাদেরকে কমপক্ষে তিন সপ্তাহের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র থাকতে হতে পারে। এছাড়া খাদ্য সরবরাহ ও বন্টন ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্থ হবে। হাসপাতালেরর উপর বড় ধরনের চাপও তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে ইসরাইলি গোয়েন্দাদের সেই নির্দেশনায়।
গত অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি অভিযানের শুরু থেকেই উত্তর ইসরাইলকে লক্ষ্যবস্ত করে ক্রমাগত হামলা করে আসছে লেবাননের ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠি হিজবুল্লাহ। কিন্তু, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরাইলের উত্তর সীমান্তে হিজবুল্লাহর সঙ্গে দেশটির সংঘাতের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়েছে।
সাত জুলাই, এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে যে, ইসরাইলের পশ্চিমে টাইবেরিয়াস শহরের নিমরা সামরিক ঘাঁটিতে কয়েক ডজন কাতিউশা রকেট দিয়ে বোমা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান সমর্থিত লেবাননভিত্তিক সসস্ত্র সংগঠন- হিজবুল্লাহ।
