গ্রাম্য সালিশে জুতাপেটার ঘটনায় এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে।
মাদারীপুরের শিবচরের কুতুবপুরে সোমবার এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইলিয়াছ মৃধা জেলার শিবচর উপজেলার কুতুবপুরের ৯নং ওয়ার্ডে কাদির মৃধার ছোট ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে ইলিয়াছের ভাবী তাছলিমার পায়ে আলপিনে খোঁচা লাগাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। তাছলিমার অভিযোগ, তার দেবর ইলিয়াছ জুতায় এটি লাগিয়ে রেখেছিল।
অভিযোগের পর বিতণ্ডার এক পর্যায়ে মারামারি হয় দেবর-ভাবীর। পরে তাছলিমা ফোনে বিষয়টি জানান তার প্রবাসী স্বামী ও স্থানীয় মাদবর আলাউদ্দিন খানকে।
আলাউদ্দিন ঘটনা জানতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং সালিশ বসায়। শেষে তিনি ইলিয়াছ মৃধা ১০০ জুতার বাড়ি শাস্তি দেন। এবং পেটানোর দায়িত্ব দেন ইলিয়াছের বাবাকে। জনসম্মুখের এ জুতাপেটার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ইলিয়াছ সবার সামনেই বিষ পান করেন।
পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সোমবার দুপুরে মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে মরদেহটি ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহতের স্ত্রীর দাবি, মাদবর আলাউদ্দিন খানের সাথে তাছলিমার অবৈধ সম্পর্ক আছে। তাই অভিযোগ পেয়েই ইলিয়াছ মৃধাকে জনসম্মুখে জুতাপেটার শাস্তি দেন তিনি। আর এ লজ্জাতেই ইলিয়াছ আত্মহত্যা করেছেন।
অপরদিকে নিহত ইলিয়াছ মৃধার ভাবী তাছলিমা বেগমের দাবি, তিনি মাদবর আলাউদ্দিন খানকে কিছু জানাননি। বরং তিনি তার শ্বশুর-শাশুড়িকে বিষয়টি জানালে তারাই মাদবর আলাউদ্দিনকে এ ঘটনা জানান। তার দেবর তাকে অনেক মেরেছে, তাই শ্বশুর রাগ করে তার দেবরকে জুতাপেটা করেছে।
অভিযুক্ত গ্রাম্য মাদবর আলাউদ্দিন খান বলেন, আমি শালিসে কোনো রায় দেইনি। বরং আমি ইলিয়াছ মৃধার বাবাকে বিচার করতে বললে, তিনিই তার ছেলেকে জুতাপেটা করেছেন।
শিবচর থানার এসআই মো. কাজী রিপন জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। জুতাপেটার বিষয়টি পুলিশ জানে না।
বগুড়ায় বাস-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে নিহত চার, আহত সাত