প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি ইউনিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কিছুদিনের মাঝেই এবার দেশটির পুলিশ বাহিনী ও এর দুই শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ক্যারিবীয় দেশটিতে চলতি মাসের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে দমনপীড়ন চালানোর অভিযোগে শুক্রবার ওয়াশিংটন এ নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বলে জানা গেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এর প্রতিবেদনে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কিউবান-আমেরিকান নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে হাভানার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিউবায় কী উপায়ে রেমিট্যান্স পাঠালে সেখান থেকে হাভানা সরকার লাভ করতে পারবে না, তা এক মাসের মধ্যে জানাতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৩০জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, ১১ জুলাই কিউবায় শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ, গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভ চাপা দিতে নেওয়া পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করছে তারা।
মহামারী ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে সোভিয়েত পতনের পর সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে সমাজতান্ত্রিক দেশ কিউবা।
আর এই সংকটেই কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সাক্ষী হতে হয়েছে দেশটিকে। কিউবার সংকট ও বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল ।
তিনি বলেছন, বিক্ষোভকারীদের অনেকে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধান আন্তরিকভাবে চাইলেও তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাজানো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারে বিভ্রান্ত হয়েছেন।
কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় কিউবায় বিক্ষোভ দমন ও কয়েকশ বিক্ষোভকারীকে আটকের ঘটনায় ক্যারিবীয় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ ইউনিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
যদিও একের পর এক মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে অনেক দেশ কিউবার পাশে এসেও দাঁড়িয়েছে। ক্যারিবীয় দেশটিতে খাবার, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠিয়েছে মেক্সিকো, রাশিয়া ও বলিভিয়া। এছাড়া ভিয়েতনাম জানিয়েছে, তারাও শিগগিরই কিউবায় ১২ হাজার টন চাল পাঠাবে।
একাত্তর/এসএ
