যেখান থেকে এবারের কোটা আন্দোলনের সূত্রপাত, সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এদিন আন্দোলনের কোনো উত্তাপ নেই। ঢাবি ক্যাম্পাসে সুনসান নীরবতা চলছে, সেখানে ছাত্রলীগ ও আন্দোলনকারীদের কাউকেই কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায়নি।
তবে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর বিভিন্নস্থানে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারীদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় চলছে সংঘর্ষ।
আন্দোলনকারীরা পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হয়েছে। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্ত্বর রূপ নিয়েছে রণক্ষেত্রে। সেখানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও সরকার সমর্থকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে।

সংঘর্ষ চলছে বাড্ডা, ধানমন্ডি, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, ইসিবি চত্ত্বর, উত্তরাসহ বেশ কিছু এলাকায়। আন্দোলনকারীদের হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করেছে, অবরোধ করা হয়েছে রেলপথ।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড্ডা-রামপুরা এলাকায় বেসরকারি ব্র্যাক ও ইস্ট ওয়েস্টসহ আরো কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
পুলিশ তাদের সরে যেতে বললে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এরপর কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়।

যাত্রাবাড়ীতে কোটা আন্দোলনকারীদের সাথে আওয়ামী লীগ কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সংবাদ সংগ্রহের সময় একাত্তরের সিনিয়র রিপোর্টার নাদিয়া শারমিন ও ক্যামেরাপার্সন রাশেদ আহত হয়েছেন।
সকালেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ধানমণ্ডি এলাকা। পুরোনো ২৭ নম্বর সড়কে কোটা আন্দোলনকারীদের সাথে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ এবং পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারগ্যাসের শেল ছোড়ে। স্কুলকলেজের ইউনিফর্মধারীসহ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনকারীদের সাথে যোগ দিয়েছেন।
বেলা ১১টার পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্ত্বর রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। কোটা আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ করতে গেলে সরকার সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়।
আন্দোলনকারীরা গাড়ি ভাঙচুর শুরু করলে তাদের ধাওয়া করে। শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এ সময় কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল ছুড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়।
কোটা আন্দোলনকারীরা সেখানে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। রাস্তায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুড়িয়ে দেওয়া কয়েকটি মোটরসাইকেল।
‘আন্দোলনকারীদের হামলাতেই ঢাকার দুইজন নিহত’