পটপরিবর্তনের তিন দিন পর বৃহস্পতিবার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের প্রস্তাব অনুযায়ী এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রাত ৮টায় বঙ্গভবনে শপথ নিতে যাচ্ছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার মধ্যরাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে প্যারিস ছাড়েন তিনি।
বৃহস্পতিবার ড. ইউনূসহ নতুন সরকারের অন্য উপদেষ্টাদের শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি নিতে শুরু করা হয়েছে।
চিকিৎসার জন্য ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে যাওয়া ড. ইউনূসের দুপুরের ভেতর ঢাকায় পৌঁছার কথা রয়েছে। বুধবার ইউনূস সেন্টারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ড. ইউনূসকে বহনকারী উড়োজাহাজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।
মঙ্গলবার রাতে বঙ্গভবনে দীর্ঘ বৈঠক শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলছিলেন, ড. ইউনূসের একটি মাইনর অপারেশন হয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি দেশে পৌঁছাবেন। এরমধ্যে আমাদের তালিকাটিও (অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের) চূড়ান্ত হয়ে যাবে।
এদিকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান মঙ্গলবার বিকালে সেনা সদরে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ড. ইউনূসকে রিসিভ করার জন্য আমরা বিমানবন্দরে যাব। তিনি আমাদের কাজকে স্বাগত জানিয়েছেন। আমরা সবাই মিলে তাকে সাহায্য করব।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে ১৫ জন সদস্য থাকতে পারেন বলেও জানান সেনাপ্রধান।
এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিতে যাওয়া ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি সাহসী ছাত্রদের অভিনন্দন জানাই, যারা আমাদের দ্বিতীয় বিজয় দিবসকে বাস্তবে রূপ দিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং অভিনন্দন জানাই দেশের আপামর জনসাধারণকে, যারা ছাত্রদের এই আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন।’
নতুন এই বিজয়ের সর্বোত্তম সদ্ব্যবহার নিশ্চিতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে এই নোবেলজয়ী বলেন, ‘আমাদের কোনো প্রকার ভুলের কারণে এই বিজয় যেন হাতছাড়া হয়ে না যায়। আমি সবাইকে বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্ত থাকতে এবং সব ধরনের সহিংসতা, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিনষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানাচ্ছি।’ ছাত্র-দলমত নির্বিশেষে সবাইকে শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রিয় এই সুন্দর ও বিপুল সম্ভাবনাপূর্ণ দেশটিকে নিজেদের ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রক্ষা করা এবং একে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন প্রধান কাজ। একটি নতুন পৃথিবী বিনির্মাণে আমাদের তরুণেরা প্রস্তুত। অকারণে সহিংসতা করে সুযোগটি আমরা হারাতে পারি না।’
সব ধরনের সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় ড. ইউনূস আরও বলেন, ‘সহিংসতা আমাদের সবারই শত্রু। অনুগ্রহ করে শত্রু সৃষ্টি করবেন না। সবাই শান্ত থাকুন এবং দেশ পুনর্গঠনে এগিয়ে আসুন। অনুগ্রহ করে নিজে শান্ত থাকুন এবং আশপাশের সবাইকে শান্ত থাকতে সাহায্য করুন।’
