ত্রিপুরাসহ উত্তর–পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। রাজ্যের আটটি জেলার ৩৩১টি ত্রাণ শিবিরে এখন পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন ৩৪ হাজারের বেশি মানুষ। রাজ্যটিতে রেড এলার্ট জারি করেছে আবহাওয়া অফিস।
এদিকে টানা ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে রাজ্যের বিভিন্ন নদীর পানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ধলাই, খোয়াই, দক্ষিণ ত্রিপুরা, পশ্চিম ত্রিপুরা, উত্তর ত্রিপুরা এবং ঊনকোটি জেলাগুলোতে নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গেলো ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় ১৮২ মিলিমিটার, খোয়াই জেলায় ১৫৭.৬০ মিলিমিটার ও গোমতী জেলায় ১৫৩. ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে বিভিন্ন জেলায় বাড়িঘর ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে গোমতী ও ঊনকোটি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এরমধ্যেই ত্রিপুরা রাজ্যের ডুম্বুর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধ খুলে দেয়া হয়েছে। উজানের পানি ত্রিপুরার বিভিন্ন জনপদ ভাসিয়ে হু হু করে ঢুকছে বাংলাদেশে।
ত্রিপুরাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বোরক টাইমস ও ত্রিপুরা টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার প্রায় ৩১ বছর পর ত্রিপুরা কর্তৃপক্ষ ডুম্বুর জলাধারের বাঁধের স্লুইস গেট খুলে দিয়েছে। সবশেষ ১৯৯৩ সালে এই বাঁধের স্লুইস গেট খোলা হয়েছিলো।
জাগরণ ত্রিপুরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সাথে কথা বলেছেন। বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করে রাজ্যে দ্রুত অতিরিক্ত ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ) পাঠাতে তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।

এরইমধ্যে এনডিআরএফ'র একটি দল ঊনকোটি জেলার কৈলাসহরে এসে পৌঁছেছে। বুধবার রাতের মধ্যে আরও চারটি দলের পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ত্রাণ, পুনর্বাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর থেকে সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে।
আরও জানানো হয়েছে, এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ নজরদারি চলছে। রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর পরস্পরের মধ্যে নিবিড় সমন্বয় রেখে নাগরিকদের এই বিপর্যয় থেকে উদ্ধারের জন্য কাজ করছে।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ত্রাণ শিবিরগুলোতে প্রয়োজনীয় খাবার, পানীয়জল, চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়াও গ্রাম উন্নয়ন, জলসম্পদ, বিদ্যুৎ, পূর্ত (রোড এন্ড বিল্ডিং), বন, আরক্ষা, অগ্নি নির্বাপণ ও জরুরি পরিষেবা এবং আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা গত তিনদিন ধরে নিরলসভাবে উদ্ধার ও ত্রাণকার্য চালিয়ে যাচ্ছেন।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এসডিআরএফ) ২৫০টিরও বেশি কুইক রেসপন্স টিম, এনডিআরএফ, সিভিল ডিফেন্স স্বেচ্ছাসেবকসহ অগ্নি ও জরুরি পরিষেবা, বন, বিদ্যুৎ, পূর্ত, কৃষি ও অন্যান্য দপ্তরের কর্মীরা ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে যোগ দিয়েছেন।
ভারী ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে গেলো ১৯ আগস্ট থেকে রাজ্যটিতে এক হাজার ৯০০টিরও বেশি স্থানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে।
রাজ্যে রেড এলার্ট জারি করে ভারতীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ত্রিপুরা রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বৃহস্পতিবারও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে সতর্ক থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় হামলা চালালো আইআরআই
ইরানে বাস উল্টে ২৮ পাকিস্তানি নিহত, আহত ২৩