আগামী ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে এবং দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারী বৃষ্টিপাত কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।এতে করে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ফেনী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই সংস্থা।
বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলেছে,গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার ভারতীয় ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং ত্রিপুরা রাজ্যের অভ্যন্তরীণ অববাহিকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে। ফলে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ফেনী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি ঘটেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল,পূর্বাঞ্চল ও কাছাকাছি উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে আসতে পারে। এ সময় এসব অঞ্চলের ফেনী,কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম জেলার মুহুরী, ফেনী, গোমতী নদীর নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি প্রাথমিকভাবে স্থিতিশীল থেকে পরবর্তী সময়ে উন্নতি হতে পারে।
এছাড়া আবহাওয়া সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী,একই সময়ে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও এর কাছাকাছি উজানে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমে আসতে পারে। এ সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের মনু, খোয়াই, ধলাই নদসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি প্রাথমিকভাবে স্থিতিশীল থেকে পরে উন্নতি হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা নদ-নদীর পানি সমতলে কমে যাচ্ছে। অপর দিকে পদ্মা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে।আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এসব নদীর পানি সমতলে কমে যেতে পারে।দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতলে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
সংস্থাটির নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানিয়েছেন,কয়েকটি নদীর পানির প্রবাহ অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে। ফেনী নোয়াখালী অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি গত তিন দশকের রেকর্ড ভেঙেছে। তবে,আগামী ৪৮-৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।
সরদার উদয় রায়হান বলেন, আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী ও চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। যৌথ নদী কমিশন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দেশের পূর্বাঞ্চলসহ সীমান্তবর্তী বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করছে।
এ সময় পাহাড়ি ঢলে ভূমিধসের শঙ্কার কথা জানিয়ে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন, ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি জেলার কোথাও কোথাও পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি জানান,শুক্রবার বিকেল থেকে নোয়াখালী, ফেনী ও কুমিল্লা জেলায় ভারি বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে আসতে পারে। ঢাকাসহ সারাদেশের ভারি বৃষ্টিপাতের তীব্রতা কমে আসবে ২৫-২৮ আগস্ট। এরপর ২৯ আগস্ট থেকে আবারও ভারি বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। তবে,এ সময় দিক পরিবর্তন করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অতিভারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনার আশপাশের অঞ্চলগুলোতে ২৯ আগস্ট ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
দুর্গত এলাকার সবশেষ পরিস্থিতি জানালো সরকার