‘নবান্ন অভিযান’র ডাক দেওয়া পশ্চিমবঙ্গ ‘ছাত্র সমাজ’র অন্যতম মুখ প্রধান সমন্বয়ক সায়ন লাহিড়ীকে পুলিশ ‘তুলে নিয়ে গেছে’। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি টিভি চ্যানেলের লাইভ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে স্টুডিও থেকে বেরুতেই সায়নকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ।
রাতে দাবি করা হয়, সায়নকে পুলিশ আটক করেছে। তবে, সায়নকে পুলিশ আটক বা গ্রেপ্তার করেছে কিনা এ নিয়ে মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত রাজ্য বা কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার নবান্ন অভিযান ঘিরে তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয় শহর জুড়ে। পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজের নবান্ন অভিযান ঘিরে দীর্ঘক্ষণ উত্তাল ছিল কলকাতা ও হাওড়া। তার রেশ কাটার আগেই ময়দানে নামে বিজেপি। বুধবার সকাল ছয়টা থেকে বারো ঘণ্টার বাংলা বনধের ডাকে তারা। মঙ্গলবার বিকেলে বিজেপির লালবাজার অভিযান ঘিরেও ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
নবান্ন অভিযানের আগের দিনই অশান্তি পাকানোর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার কথা বলেছিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। তৃণমূলের পক্ষ থেকেও সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করা হয়, নবান্ন অভিযানের পেছনে বিরোধী রাজনৈতিক দলের বড়সড় অশান্তি পাকানোর ছক রয়েছে।
দাবি প্রমাণ করতে তৃণমূল সামনে আনে দুইটি ভাইরাল ভিডিও। রাজ্যে অস্থিরতা তৈরি করতে নবান্ন অভিযানে গুলিও চালানো হতে পারে এবং পরিকল্পিতভাবে অশান্তি করতেই ছাত্রসমাজের নামে এই কর্মসূচি বলে দাবি করে তৃণমূল। এরপর সেই সূত্রেই তিন বিজেপি নেতাকে গ্রেপ্তার করে ঘাটাল থানার পুলিশ।
পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজের ডাকে মঙ্গলবারের নবান্ন অভিযানকে বেআইনি ও অবৈধ বলে ঘোষণা করে পুলিশ। এরপর নবান্ন অভিযানে ধুন্ধুমার বেঁধে যায় হাওড়া ও কলকাতা উভয় জায়গাতেই।
বিকেলে কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় জানান, নবান্ন অভিযান থেকে কলকাতা পুলিশ মোট ১২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে ১০৩ জন পুরুষ ও ২৩ জন নারী। রাজ্য পুলিশের হাতেও গ্রেপ্তার ৯৪। সবমিলিয়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যাটা ২০০’র ওপরে। নবান্ন অভিযানে মোট ১৫ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
দিনব্যাপী তুলকালামের পর এবিপি আনন্দ’র এক লাইভ অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন নবান্ন অভিযানের অন্যতম আয়োজক সায়ন লাহিড়ি। অনুষ্ঠান শেষে বেরোতেই অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাকে তুলে নেয় পুলিশ। পুলিশের প্রকাশ করা ভিডিওতে, শহরের একটি পাঁচতারা হোটেলে ঢুকতে দেখা গিয়েছিল তাকে। সেখানে তিনি কোনও রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে দাবি পুলিশের।
যদিও নবান্ন অভিযানের আগেরদিনই সায়ন বার্তা দিয়েছিলেন, ‘আমরা কোনও ভাঙচুর করব না। পুলিশকে আঘাত করব না। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করব। কারণ আমরা ভাঙতে নয়, গড়তে চাইছি।’
সুকান্তকে গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ‘আজকের নাগরিক আন্দোলন দেখে কেঁপে উঠেছে নবান্ন। কর্মসূচি মিটতেই শুরু হয়ে গেলো আরও এক দফা ধরপাকড়। পুলিশ তুলে নিয়ে গেলো পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজের অন্যতম মুখ সায়ন লাহিড়ীকে। পুলিশ দিয়ে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা যাবে না।’
এদিকে, নবান্ন অভিযানের পরপরই কলকাতা পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২১টি ছবি প্রকাশ করেছিল। সেখানে পুলিশের ওপর হামলাকারী বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়। ওইসব ছবির ক্যাপশনে লিখা ছিল, ‘সন্ধান চাই: নীচের ছবিতে যাদের চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের সন্ধান জানা থাকলে অনুরোধ, জানান আমাদের, সরাসরি বা আপনার সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে।’
রাখাইনে আধা রাষ্ট্র গঠনের পথে আরাকান আর্মি 